পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - বন্ধুরা, আজকের পোস্টে পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করবো। জাপানের জাতীয় ফল হল পার্সিমন। পার্সিমন উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ একটি ফল। পার্সিমন সাধারণত এশিয়া মহাদেশের ফল। ফলটি দেখতে অবিকল পাকা গাবের মতো। অত্যন্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি এই ফলটি পাকলে সবুজ থেকে হলুদ ও লাল রং ধারণ করে। প্রজাতিভেদে হলুদ,কমলা,লাল,বাদামি বা কালচে রংয়ের দেখা যায়। পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আরো জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই জানতে চেয়েছেন পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। তাহলে আজকের পোস্টটি আপনাদের জন্য বিস্তারিত পড়ুন ।

পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা "উপস্থাপনা"

পার্সিমন বিভিন্ন প্রকারের আছে তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি পার্সিমন হচ্ছে হাঁচিয়া এবং ফুয়ু পাওয়া যায়। হাঁচিয়া ও পার্সিমন পাকলে খাওয়া যায় এবং পেকে গেলে নরম ও মিষ্টি হয়। অন্যদিকে ফুয়ু পার্সিমন না পাকলেও খাওয়া যায়। তবে এটা খেতে কচকচে ও মিষ্টি হয়।

পার্সিমন দিয়ে জেলি, পায়েস, আচার তৈরি করা হয়। আবার পার্সিমন রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। শুকনো পার্সিমনও অনেক উপকারী।একটি পার্সিমন ফলের ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এর পাতা, কান্ড, ফুল-ফল সবকিছুতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ। আসুন জেনে নেই পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।

পার্সিমন ফল খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

শুধু একটি পার্সিমন ফলে প্রায় ৬ গ্রাম ফাইবার আছে। ফাইবার বা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ফল নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে।

হার্টকে সুস্থ রাখতে | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা 

নিয়মিত পার্সিমন খেলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক কমে যায় এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়। হার্টকে সুস্থ রাখতে খুবই উপকারী এই ফল।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। শুধুমাত্র একটি পার্সিমনে দিনের চাহিদার ৫৫% ভিটামিন এ পাওয়া যায়। ভিটামিন এ চোখের স্নায়ুগুলোর  কার্যক্ষমতা ঠিক রেখে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে অনেক সাহায্য করে। এছাড়া পার্সিমনে লুটিম নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা 

আমাদের শরীরে এনার্জি প্রধান মাধ্যম কার্বোহাইড্রেট যা পার্সিমন থেকে অনেক সহজে পেয়ে থাকি। এছাড়া পার্সিমনে ফ্যাটের মাত্রা খুব কম থাকে। এই দুটো জিনিস ওজন কমানোর জন্য আদর্শ মাধ্যম। কারণ ওজন কমাতে অনেক ব্যায়াম করতে হয় এতে এনার্জি কমে যায় তাই  কার্বোহাইড্রেট এনার্জি লেভেল পূরণ করে এবং একইসাথে পার্সিমনে ফ্যাটের পরিমাণ ০.৩ গ্রাম যা ওজন কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ত্বক ও চুল | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যায় ভিটামিন সি এর অভাবে। যদি চুলকে আরো সুন্দর করতে চান চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত করতে চান এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চান তাহলে নিয়মিত ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যা আমরা  ওজন কমাতে পার্সিমনে অনেক সহজেই পেতে পারি।

বাধ্যক্য  | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমনে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এমন কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ হলো ভিটামিন এ, বি, ক্যারোটিন, লাইকোপেন, ডেক্সমিথিন, লুটেইন, এবং ক্রিপ্টোক্রান্থিন একসাথে এই যৌগগুলি প্রতিক্রিয়াশীল অক্সিজেন প্রজাতির (আর ও এস) বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক সক্যাভেঞ্জার হিসাবে কাজ করে যা বাধ্যক্য এবং বিভিন্ন রোগ প্রক্রিয়ায় ও ভূমিকা পালন করে।

রক্তপাত প্রতিরোধ করে | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমন এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য উপকারী ফ্ল্যাভোনয়েড পলিফেনলিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ক্যাটেচিন, গ্যালোক্যাটেচিন, এবং বেটুলিক অ্যাসিড, এই ক্যাটেচিনগুলো সংক্রমণ বিরোধী এবং রক্তক্ষরণ বিরোধী যা ছোট রক্তনালীর থেকে রক্তপাত প্রতিরোধ করে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমন ফলে আছে পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ট্যানিন যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমন ভিটামিন সি এর একটি ভালো উৎস। আর একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত ব্যবহার শরীরকে সংক্রমণ এজেন্টদের  বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ক্ষতিকারক প্রদাহজনক যার্ডিকেলগুলোকে শরীরে অপসারণ করতে সাহায্য করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী একটি ফল। ডায়াবেটিসের জন্য যারা বেশি খেতে পারেন না কিন্তু পেটের ক্ষুধা থাকে তাদের জন্য পার্সিমন উপযুক্ত একটি ফল। কারণ পার্সিমন ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় ডায়াবেটিস ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

খাদ্যে অতিরিক্ত সোডিয়াম যোগ করা হলে উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে পার্সিমন সোডিয়াম নিম্নস্তরের অধিকারী। তাই যারা উচ্চ রক্তচাপ  ভুগছেন তাদের জন্য পার্সিমন খুবই উপকারী। এছাড়া ফল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

লিভার সুস্থ রাখে | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

পার্সিমন পারমিশন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা আমাদের শরীরের অক্সিজেন মুক্ত যার্ডিকেলের ক্ষতি করে। এটি বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব কমায় এবং কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। এর ফলে একটি সুস্থ লিভার পাওয়া যায়।

শরীরের মিনারেলের ঘাটতি পূরণ | পার্সিমন খাওয়ার উপকারিতা

তাজা এবং শুকনো পার্সিমন ফলগুলিতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার এবং ফসফরাসের মতো স্বাস্থ্যকর পরিমাণে খনিজ পদার্থ থাকে। যা আমাদের শরীরের মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।

পার্সিমন ফলের পুষ্টিগণ

পার্সিমন বা কাকি বর্তমানে বাংলাদেশের নাটোরে চাষ হচ্ছে যা মূলত জাপানের জাতীয় ফল। নাটোরে অল্প পরিসরে পার্সিমনের ফলন পাওয়া গেলেও অচিরেই এ ফল এদেশের মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়বে।

পার্সিমনের উতপত্তিস্থান ও গুণাগুনঃ পার্সিমনের উৎপত্তিস্থল চায়নাতে হলেও জাপান, কোরীয় উপদ্বীপ ছাড়িয়ে চলে গেছে ইউরোপ ও আমেরিকাতে। এই ফলটি ভিটামিন এ, বি এবং সি’তে ভরপুর। এতে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও কপারসহ একাধিক খনিজ লবণ।

মানুষের শরীরের জন্যে উপকারী পার্সিমনের অসংখ্য গুনাগুণ থাকলেও এতে থাকা পেকটিন শরীরের রক্তচাপ এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পার্সিমন ফলের দাম

বন্ধুরা আপনারা যারা পার্সিমন ফলের দাম সম্পর্কে জানতে আমাদের আজকের পোস্টটি ওপেন করেছেন। তাদের সুবিধার্থে পার্সিমন ফলের দাম দেওয়া হল।

পার্সিমন বা কাকি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফলগুলির মধ্যে একটি। বর্তমানে প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ বাংলাদেশি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে মাঝে মাঝে আমদানি করা হয় যা সুপারশপে পাওয়া যায়, বাংলাদেশের বাজারে এক কেজি ফলের দাম ৭০০/৮০০ টাকা।

পার্সিমন ফল চাষ পদ্ধতি

দেশের বিখ্যাত ফল গবেষক এস এম কামরুজ্জামান জাপান, ইতালি, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে আনা ১৫টি পার্সিমন গাছ থেকে ফল সংগ্রহের চেষ্টা করেন। নাটোরের মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টারে, তিনি পরবর্তীতে 2010 সালে সফলতার সাথে পার্সিমন গাছ সংগ্রহ করেন।

বর্তমানে, থাইল্যান্ডের ছয়টি গাছ, প্রতিটি প্রায় 20 ফুট উঁচু, 1.5 থেকে 2000 পর্যন্ত ফল ধরে। 7-6টি ফল মোট 1 কিলোগ্রাম। হলুদ এবং কমলা ফলের সংমিশ্রণে গাছে গাছে পার্সিমন জন্মে যা স্থানীয় টমেটো এবং রঙ এবং আকৃতিতে উভয়ের মতো। সপেদার মতো কয়েকটি বীজ মিষ্টি, রসালো পার্সিমনের মধ্যে থাকে।

পার্সিমন গাছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ফল ধরে এবং মার্চ মাসে ফুল ফোটে। তবে, সাবেক সহকারী সচিব ও উদ্যানপালন এস এম কামরুজ্জামান ফল বিতরণের তারিখ নভেম্বরে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নভেম্বরে তিনি দাবি করেন, এ দেশে কোনো ফল হয় না। নভেম্বরের মতো অনুৎপাদনশীল মাসে এই ফলটি চাষ করে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারলে নিঃসন্দেহে এটি জনপ্রিয়তা পাবে।

চারা সম্প্রসারণঃ আধুনিক হর্টিকালচার সেন্টারের গাছগুলোকে মাদার প্ল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করে ১০০০ চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে, এই চারাগুলি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এবং 3-4 বছরের মধ্যে, এই গাছগুলি ফল ধরতে শুরু করবে। দেশের মানুষ একদিন এই ফলের কথা জানতে পারবে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফল হল পার্সিমন বা কাকি।

পার্সিমন ফল খাওয়ার অপকারিতা

প্রচুর পরিমাণে পার্সিমন খাওয়ার ফলে বেজোয়ার তৈরি হতে পারে । একটি বেজোয়ার একটি শক্ত ভর যা গ্যাস্ট্রিক বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ডায়োস্পাইরোবেজোয়ার হল বেজোয়ারের একটি উপপ্রকার। ডায়োস্পাইরোবেজোয়ার পার্সিমনের জন্য নির্দিষ্ট।

  • পার্সিমন ফল ত্বককে সাহায্য করে এবং অ্যালার্জি এড়ায়, তবে অ্যালার্জিযুক্ত লোকদের জন্য এটি উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে। রাজশাহী কাটোয়া ডাটা খাওয়ার পরে তাদের ত্বক লাল এবং খিটখিটে হয়ে যায়।
  • যদি তারা অতিরিক্ত পার্সিমন ফল খাওয়ার পরে, তবে যারা অ্যাসিডিটি এবং পেটের সমস্যায় ভুগছেন তাদের পেট ফুলে যাওয়া এবং গ্যাস হতে পারে।
  • যেহেতু পার্সিমন ফল পটাসিয়াম থাকে, যা ভাল কিডনির কার্যকারিতা সমর্থন করে, তাই উচ্চ পটাসিয়ামযুক্ত খাবার কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক নয়।
  • পার্সিমন ফল স্বাদ মিষ্টি হওয়ায় যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। তারা পার্সিমন ফল থেকে বিরত থাকবেন। কারণ পার্সিমন ফলে মিষ্টি পরিমাণ বেশি রয়েছে। ফলে আপনার ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ কথা - পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আপনারা যারা আমাদের আজকের আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়েছেন। তারা নিশ্চয়ই পার্সিমন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আশা করি আজকের পোস্টটি পড়ে আপনারা অনেক উপকৃত হয়েছেন। পোস্টটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে। তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।

Next Post Previous Post