গ্যাংগলিয়ন সিস্ট কি- গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার কারণ-গ্যাংগলিয়ন সিস্ট এর চিকিৎসা

হাতের উপরে কব্জিতে ফোলা টিউমার বা গ্যাংগলিয়ন সিস্ট সম্পর্কে জানতে চান। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা অনাকাঙ্খিত ভাবেই এই সমস্যাই ভোগে থাকেন। অনেকেই দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে যায়। হাতের উপরে কব্জিতে ফোলা টিউমার বা গ্যাংগলিয়ন সিস্ট নিয়ে। যত দিন যায় ততই আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। তারা বুঝতে পারে না যে কি করা যায় বিষয়টি বুঝতে পারেনা। তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আর্টিকেলে হাতের উপরে কব্জিতে ফোলা টিউমার বা গ্যাংগলিয়ন সিস্ট সম্পর্কে জানাব।

টিউমার ও গ্যাংগলিয়ন সিস্ট

তাহলে হাতের উপর কব্জিতে ফোলা টিউমার বা গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার কারণ। হাতের উপর কব্জিতে ফোলা গ্যাংগলিয়ন সিস্ট কি, গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার কারণ, গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার আশঙ্কা, গ্যাংগলিয়ন সিস্ট ক্যান্সার রূপ ধারণ করে কিনা,গ্যাংগলিয়ন সিস্ট এর চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন।

হাতের উপরে কব্জিতে ফোলা ও টিউমার "উপস্থাপনা"

আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করব হাতের উপরে কব্জিতে ফোলা ও টিউমার সম্পর্কে। আমরা অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অনুভব করে থাকি। আমাদের হাতের উপরে কব্জিতে হঠাৎ করে ফোলে গেছে। এই ফোলা আস্তে আস্তে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক সময় ব্যথা হয় আবার কারো ব্যথা নাও হতে পারে।

আপনি যেটা হাতের ফোলা এবং ব্যথা অনুভব করেন। আর তাছাড়া এর কারণে আপনার মনে হতে পারে আপনার টিউমার হয়েছে কিনা ? টিউমার থেকে আবার ক্যান্সার হবে কিনা ? এরকম আপনার মনে প্রশ্ন হতে পারে। সত্য কথা বলতে মেডিকেলের ভাষায় আসলে এটি টিউমার না। আর এখান থেকে কোন ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা নেই। এটা এক ধরনের গ্যাংগলিয়ন সিস্ট।

গ্যাংগলিয়ন সিস্ট কি ?

এখন আমরা জানবো গ্যাংগলিয়ন সিষ্ট কি? গ্যাংগলিয়ন সিস্ট সাধারণত হাতের উপরিভাগে কব্জিতে ফোলা তরল। এটি তরল হাওয়া স্থানে চাপ দিলে নরম অনুভূতি জাগায়। এটি একান্ত হাতের কব্জির জয়ন্তের বা ট্রেন্ডনের উপরে হয়। গ্যাংগলিয়ন সিস্ট আস্তে আস্তে বড় হয় তাই মানুষ অনেক দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এমনটি হওয়ার কারণ তরলটি আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পায়। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যখন বেশি সমস্যা মনে করেন তখন একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন দ্বারা সার্জারি করে নিতে পারেন। তাহলে গ্যাংলিয়ন শেষ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার কারণ 

বন্ধুরা, আমরা উপরে জেনেছি গ্যাংগলিয়ন সিস্ট কি, এখন আমরা জানবো গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার কারণ। গ্যাংগলিয়ন সিস্ট কেন হয়গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার কারণ সাধারণত আমরা অনেক সময় দেখা যায় দীর্ঘদিন একই কাজে অভ্যস্ত থাকার কারণে গ্যাংগলিয়ন সিস্ট সমস্যায় রোগীরা বেশি ভোগে। দীর্ঘদিন যাবৎ দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করা বা বসে থেকে কাজ করা এবং একই ধরনের কাজে প্রতিনিয়ত করতে থাকা। এ কারণে আমাদের হাতে ও পায়ে রগে টান বা জিম লাগে। দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুম থেকে জেগে উঠার পরে হাতে রগ টান বা পা সিস্ট লাগে। তখন এটি আপনি বুঝতে পারেন না এটা কেন হয়। পরে আস্তে আস্তে উপলব্ধি করতে পারেন আপনার হাতের উপরে কব্জিতে ফোলা বা টিউমারের মতো কিছু দেখা যায়। এর কারণে সাধারণত হাতের উপরে কব্জিতে জমে থাকা ফোলা তরল গ্যাংগলিয়ন সিস্ট আকৃতি ধারণ করে থাকে।

গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার আশঙ্কা

উপরের পোস্টে আমরা জেনেছি, গ্যাংগলিয়ন সিস্ট কি, গ্যাংগলিয়ন সিস্ট হওয়ার কারণ, এখন আমরা জানবো গ্যাংগলিয়ন সিস্ট কাদের বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাংগলিয়ন সিস্ট যুবক-যুবতীদের যাদের বয়স 20 থেকে 40 বছরের তাদের হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাদের এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। গ্যাংগলিয়ন সিস্ট সাধারণত 60 থেকে 70 শতাংশ মানুষের হাতের কব্জির সামনে বা পিছনে হয়ে থাকে। গ্যাংগলিয়ন সিস্ট যদি ইনজুরির ব্যথা জনিত হয়ে থাকে তাহলে গ্যাংগলিয়ন সিস্ট বিকশিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 
বন্ধুরা, নিচে গ্যাংগলিয়ন সিস্ট ক্যান্সার রোগ ধারণ করে কিনা, গ্যাংগলিয়ন সিস্ট এর চিকিৎসা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

গ্যাংগলিয়ন সিস্ট ক্যান্সার রূপ ধারণ করে কিনা? 

প্রিয় পাঠক আপনি 100% নিশ্চয়তার জন্য আপনার হাতের কব্জির এক্সরে, এম.আর.আই বা আলতাসনো করে নিশ্চিত হতে পারেন। ক্যান্সার আকার ধারণ হয়েছে কিনা বুঝতে পারবেন। তাহলে আপনি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।

গ্যাংগলিয়ন সিস্ট চিকিৎসা

পাঠক গ্যাংগলিয়ন সিস্ট যদি আপনাকে ব্যথা বা পেন না দেয় তাহলে চিকিৎসার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে যদি আপনি মনে করেন আপনার হাতের কব্জির উপর ফোলা তরল অংশ  আপনার পছন্দ না হয়। তাহলে আপনি ভালো সার্জেন দ্বারা সার্জারি করে নিতে পারেন।
গ্যাংগলিয়ন সিস্ট এর ডাক্তার আপনার হাতের ফোলা তরল অংশকে সুই ঢুকিয়ে সার্জারির মাধ্যমে তরল নিস্কাশন করে দিবেন। এক থেকে তিন বার তরল বের করার পর এটি পুনরায় তরল পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সর্বশেষ কথা

প্রিয় পাঠক, নিশ্চয়ই আপনাদের বুঝাতে পেরেছি হাতের উপরে কব্জিতে ফোলা ও টিউমার সম্পর্কে। তবে একটি কথা মনে রাখবেন, একবার গাংলিয়ন সিস্ট হলে তা আবার ফিরে আসতে পারে। বেশি সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। তাছাড়া ব্যথা হলে আপনি ব্যথার ঔষধ খেতে পারেন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটি ফলো করুন।
Next Post Previous Post