OrdinaryITPostAd

ভূমিকম্প কি - ভূমিকম্প হওয়ার কারণ - ভূমিকম্পের সময় করণীয়

আপনি কি গুগলে সার্চ করে ভূমিকম্প টাইপ করে আমাদের ওয়েবসাইট এসেছেন। আপনি কি ভূমিকম্প সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের পোস্টে আমরা ভূমিকম্প সকল তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা ভূমিকম্প সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। আজকের পোস্টটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়লে আশা করি উপকৃত হবেন। তাহলে চলুন ভূমিকম্প সম্পর্কে জেনে নিন।

ভূমিকম্প কি - ভূমিকম্প হওয়ার কারণ

আপনারা যারা ভূমিকম্প সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাহলে দেরি না করে চলুন ভূমিকম্প কি, ভুমিকম্পের কেন্দ্র কাকে বলে, ভূমিকম্প কেন হয়, ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব, ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রের নাম কি, ভূমিকম্পের দেশ কোনটি, ভূমিকম্প কিভাবে সৃষ্টি হয়, ভূমিকম্প হওয়ার কারণ, ভুমিকম্পের সময় করণীয় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতজেনে আলোচনা করা হবে।

 ভূমিকম্প কি

ভূমিকম্প বলতে, ভূমি গর্ভ হতে যে কম্পন সৃষ্টি হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। ভূমির অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার উপরে উঠে আসে তখন ভূমিকম্প হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষ হঠাৎ করে অবস্থান পরিবর্তন করা ভূমিকম্পন। আমরা সাধারণত যেভাবে বুঝি ভূমিকম্পন হলে, ভূমিকম্পন চলমান অবস্থায় আমাদের ঘরের জিনিসপত্র দোলাতে থাকে। যেমনঃ দেওয়াল ঘড়ি টাঙ্গানো ছবি বা খাঁর সহ অন্যান্য যে কোন আসবাবপত্র কম্পনে দোলতে থাকে। সহজ কথায় পৃথিবী কেঁপে ওঠে ভূমিকম্প।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র কাকে বলে?

ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলতে, ভূপৃষ্ঠে অভ্যন্তরে যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বা ফোকাস বলে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ৫০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার গভীরতা অবস্থান করে।

গবেষণায় দেখা গেছে সাধারণত সারা পৃথিবীতে বছরে গড়ে ৬হাজার ভূমিকম্প হয়। সাধারণত বেশিরভাগই মৃদু যেগুলো আমরা টের পাই না। সারা পৃথিবীতে সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে প্রচন্ড, মাঝারি ও মৃদু। আবার বিভিন্ন উৎসের ক্ষেত্রে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমনঃ অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প। সাধারণত ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে মধ্যবর্তী, ৩০০ কিলোমিটারের নিচে হলে তাকে গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

ভূমিকম্প কেন হয়

ভূপৃষ্ঠে অভ্যন্তরে স্থিত গ্যাস যখন ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন সেই গ্যাসের অবস্থানটি ফাঁকা হয়ে পড়ে আর পৃথিবীর উপরে দলের চাপ ওই ফাঁকা স্থানে দেবে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তখন ভূপৃষ্ঠের প্রবল কোম্পানির অনুভব হয় যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্প উৎপত্তি হয়ে থাকে ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ পরিবর্তন জনিত কারণে, আগ্নেয়গিরি সংঘটিত হওয়ার কারণে, শিলাচ্যুতি জনিত কারণে।

ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব

যখন ভূমিকম্প হয় তখন ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কেননা এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। সারা পৃথিবীতে বছরে ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার হয় তার নাম হলো রিখটার স্কেল। আমরা জানি, রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১1 থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলের মাত্রা ৫ এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা করা। ভূমিকম্প এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে এর মাত্রা ১০ থেকে ৩২ গুন বৃদ্ধি পেতে পারে একটা স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ মাঝারি, ছয় তীব্র, ৭ ভয়াবহ, ৮ অত্যন্ত ভয়াবহ।

ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রের নাম কি ? 

ভূকম্পন মাপকঃ ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রের নাম হল সিসমোমিটার। সিসমোমিটার হলো এক ধরনের পরিমাপ করার যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প অগ্নে-অপাদ বা অন্য যেকোনো ধরনের সংঘটিত ও তাত্ত্বিক ভূগর্ভস্থ কম্পনের তীব্রতা মাপা যায়।

ভূমিকম্পের দেশ কোনটি

ভূমিকম্পের দেশ বলতে সাধারণত আমরা জাপানকে বলে থাকি। এছাড়া প্রাচীরের দেশ বলতে চীনকে বলা হয়। তারপরে শ্বেত হাতির দেশ থাইল্যান্ড।

ভূমিকম্প কিভাবে সৃষ্টি হয়

ভূমিকম্প যেভাবে সৃষ্টি হয়, সাধারণত পৃথিবীর ভূগর্ভ অভ্যন্তরে শিলা পিরনের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে অর্থাৎ সেই শক্তি হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূপৃষ্ঠের ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূত্বকের কিছু অংশ আনন্দিত হয় এই রূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। কম্পন তরঙ্গ থেকে যে শক্তির সৃষ্টি হয় তা ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ভূমিকম্প হওয়ার কারণ

পাতের চলন জানতে ভূমিকম্পঃ পৃথিবীর ভূতত্ত্বক কতগুলি ছোট বড় চলনশীল পাতের সমন্বয়ে গঠিত। এই দুটি পাতের পরস্পর বিপরীত দিকে চলনের ফলে পাত সীমান্তে বারবার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এই পাত জনিত কারণে সারা পৃথিবীর ভূমিকম্পের প্রদান কারণ।

অগ্নেয়পাত জনিত ভূমিকম্পঃ সাধারণত পৃথিবীতে অগ্নেয়গিরি থেকে আগ্নেয় পাতের সময় ভূমিকম্প হয়। তাই যেসব অগ্নিয়োগের বিস্ফোরণ সহকারে অগ্নেয়পাত ঘটায় তার আশপাশের অঞ্চল গুলিতে প্রবল ভূমিকম্প অনুভূতি হয়।

ভূগর্ভস্থ বাষ্প রাশির চাপঃ পৃথিবীর মধ্যে সঞ্চিত বাষ্প পুঞ্জের পরিমাণ স্তরে ধাক্কা দেয় এর ফলে ভূমিকম্প অনুভূত হয় প্রশান্ত মহাসাগরের সন্ধিহতো অংশে প্রচুর ফাটল থাকায় দেখা যায়।

তাপ সংকোচন জনিত ভূমিকম্পঃ তাপ সংকোচন জনিত ভূমিকম্প সাধারণত সৃষ্টি হয় উত্তপ্ত পৃথিবীর ক্রাম বিকিরণের শীতল থাকার মাধ্যমে। বর্তমানে পৃথিবীর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন হলেও অভ্যন্তরীণ ভাগ এখনো অত্যাধিক উত্তপ্ত রয়েছে ফলে উপরেও নিচের স্তরের মধ্যে আয়তনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই ভারসাম্য রক্ষার জন্য ভূপৃষ্ঠের কিছু অংশে সৃষ্টি করে এরূপ পুনর্ববিন্যাসের সময় মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হতে পারে।

ধ্বংস স্বরূপঃ যখন ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে পর্বত অঞ্চল ধস সৃষ্টি হয়। তখন খাড়া ঢাল বরাবর বিশাল পাথরের নিচে পতিত হয় ফলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়

  • ভূমিকম্প হওয়ার সময় আতঙ্ক না হওয়া।
  • ভূমিকম্প হওয়ার সময় বিছানা থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল বা ডেক শক্ত করে কোনো আসবাবপত্রের নিছে আশ্রয় নিতে হবে।
  • রান্নাঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।
  • আপনি যদি ছাদ বা বিল্ডিং বাড়িতে থাকেন তাহলে সেই বিল্ডিংয়ের কলাম বা পিলার ঘেসে আশ্রয় নিতে হবে।
  • আপনি যদি শিক্ষার্থী হোন সে ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে স্কুল ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলে নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
  • আপনি যদি ঘরে থাকা অবস্থায় ভূমিকম্প শুরু হয় সেক্ষেত্রে উচু গাছ, বাড়ি বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে খোলাই স্থানে অবস্থান নিতে হবে।
  • আপনি যদি গার্মেন্টসে বা ফ্যাক্টরি,হাসপাতাল, মার্কেট, সিনেমা হলে থাকেন বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি না।
  • যদি কখনো একবার ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় তার কিছুক্ষণ পরে আবার ভূমিকম্প হতে পারে সেজন্য পরবর্তীতে ভালো একটি খালি জায়গায় অবস্থান করা
  • আপনি যদি অফিসে বা প্রতিষ্ঠানের লিফটে আটকা পড়েন ভূমিকম্প হওয়ার সময়। লিফটের না থামা পর্যন্ত তাড়াহুড়া করে লাফ দিয়ে লিফ্ট থেকে বের না হওয়া।
  • আপনি যদি গাড়িতে থাকেন সেক্ষেত্রে ওভারব্রিজ বা ফ্লাইওভার কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে গাড়ি দূরে রাখতে হবে।
  • ব্যাটারি চালিত রেডিও, টস লাইট, পানি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সব সময় বাড়িতে রাখবেন।

সর্বশেষ কথা

প্রিয় পাঠক, নিশ্চয়ই আপনাদের বোঝাতে পেরেছি ভূমিকম্প কি, ভুমিকম্পের কেন্দ্র কাকে বলে, ভূমিকম্প কেন হয়, ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব, ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রের নাম কি, ভূমিকম্পের দেশ কোনটি, ভূমিকম্প কিভাবে সৃষ্টি হয়, ভূমিকম্প হওয়ার কারণ, ভুমিকম্পের সময় করণীয়। আশা করি আজকের পোস্টটি শেষ পর্যন্ত করার জন্য অনেক উপকৃত হয়েছেন। 

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্ট পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন