OrdinaryITPostAd

গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা - গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা

প্রিয় পাঠক এই পোস্টটি পড়ে আপনারা জানতে পারবেন গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা সম্পর্কে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত নন তাদের সুবিধার্থে এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করব গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা সম্পর্কে।এছাড়াও পোস্টটি পড়ে আরো জানতে পারবেন গোল্ড ফেসিয়ালের দাম, গোল্ড ফেসিয়াল কিট, গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম, গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম, গোল্ড ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয় ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে।

তাহলে চলুন আর দেরি না করে জেনে নিন, গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা, গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা, গোল্ড ফেসিয়ালের দাম, গোল্ড ফেসিয়াল কিট, গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম, গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম, গোল্ড ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয়  ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে।  

পোস্ট সূচিপত্রঃ

গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা

আমরা এখন জেনে নেব গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা গুলো সম্পর্কে। ফেসিয়াল করার উপকারিতা রয়েছে তবে সেটা আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী বাছাই করতে হবে।কারো ত্বক স্বাভাবিক শুষ্ক হয়, আবার কারো মিশ্র ত্বক থাকে। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তার জন্য যে ফেসিয়াল প্রয়োজন  শুষ্ক বা মিশ্র ত্বকের জন্য সেটার মাধ্যমে খুব একটা উপকার না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। গোল্ড ফেসিয়াল মূলত স্বাভাবিক ত্বকের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন আপনার ত্বকের রং উজ্জ্বল করার জন্য। বর্তমানে  গোল্ড ফেসিয়াল আপনি সেলুনে গিয়ে করতে পারেন অথবা গোল্ড ফেসিয়াল কিট কিনেও করতে পারেন। গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা নিচে আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো।

  • গোল্ড ফেসিয়াল আপনার ত্বককে স্থায়ীভাবে উজ্জ্বল ফর্সা এবং আকর্ষণীয় করে তোলে।
  • অরিজিনাল গোল্ড ফেসিয়ালে থাকে ২৪ ক্যারেট গোল্ড উপাদান যা ত্বককে গভীর থেকে উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে।
  • গোল্ড আমাদের ত্বকের কোষগুলিকে সজাগ করতে সহায়তা করে, যার ফলে আমাদের ত্বক হয় দাগছোপ মুক্ত, বলিরেখাহীন ও টানটান। যার কারনে ত্বক হয়ে ওঠে চমৎকার ।
  • গোল্ড ফেসিয়াল করলে  আপনার ত্বক এর সমস্ত ধুলো-ময়লা এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।
  • গোল্ড ফেসিয়াল মধ্য বয়সি নারীদের জন্য বিশেষ উপযোগী কারণ এই ফেসিয়াল করলে মুখে একটি সোনালি আভা আসে। এবং প্রতি মাসে একবার করে করালে ধীরে ধীরে আপনার মুখ উজ্জ্বল হবে।
  • গোল্ডে উপস্থিত আয়ন, যা কোষ, নার্ভ ও শিরা উপশিরাগুলিকে উদ্দীপিত করে। গোল্ড ফেসিয়াল সহ যে কোন ফেসিয়াল করানোর ফলে আমাদের ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং ত্বক দেখায় সজীব ও সতেজ ।
  • অনেকের বয়স বাড়ার সাথে সাথে মুখে একটি বয়সের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। গোল্ড ফেসিয়াল করলে বয়সের ছাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। গোল্ড ফেসিয়াল করলে আপনার ত্বক টানটান দেখায়।
  • সূর্যের তাপে কাজ করলে অনেকের ত্বক সানবার্ন হয়। গোল্ড ফেসিয়াল এর ফলে ত্বকের সানবার্ন এর পরিমাণ কমে আসে।

সুতরাং আপনারা বুঝতেই পারছেন গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা রয়েছে কত।

গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা

আমরা এখন জেনে নেব গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা গুলো সম্পর্কে। অনেকেই মনে করেন গোল্ড ফেসিয়াল করালেই মনে হয় মুখের ত্বকের সমস্ত সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এমন নয়।আপনি যদি আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল না করেন তাহলে এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। নিচে গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো। 

  • যে কোন ব্যক্তির ফেসিয়াল শুরুর এটি বয়স রয়েছে। অল্প বয়সে ফেসিয়াল করলে অনেক সময় উপকার এর পরিবর্তে অপকার হতে পারে। অল্প বয়সে গোল্ড ফেসিয়াল করলে অনেক সময় মুখের দাগ দূর করার পরিবর্তে ব্রণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। যাদের সেনসিটিভ ত্বক তাদের এই ফেসিয়ালটি করা যাবে না।
  • অন্যান্য ফেসিয়ালের তুলনায় গোল্ড ফেসিয়াল করানোর খরচ অনেকটাই বেশি। এছাড়াও গোল্ড ফেসিয়াল কিট এর দাম অন্যান্য ফেসিয়ালের তুলনায় কিছুটা বেশি। এটি গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা বলে মনে হয়েছে।  

গোল্ড ফেসিয়ালের দাম | গোল্ড ফেসিয়াল কিট | গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম

আমরা এখন জেনে নেব গোল্ড ফেসিয়ালের দাম বা গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম কত সেই সম্পর্কে। অনেকেই আছেন যারা ফেসিয়াল করাতে চান কিন্তু গোল্ড ফেসিয়ালের দাম বা গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত নন তাদের সুবিধার্থে আমরা এখন জেনে নেব গোল্ড ফেসিয়ালের দাম কত। 

আরো পড়ুনঃ কমলা কার ১৫ টি আশ্চর্যজনক উপকারিতা

আসলে গোল্ড ফেসিয়াল আপনি দুইভাবে করাতে পারবেন। যেকোনো বিউটি সেলুন বা বিউটি পার্লারে গিয়ে গোল্ড ফেসিয়াল করাতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে এটি নির্ভর করবে বিউটি পার্লার এর উপর।সাধারণত বিউটি সেলুন বা বিউটি পার্লারে গোল্ড ফেসিয়াল করাতে খরচ পড়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। 

আবার আপনি ঘরে বসেই গোল্ড ফেসিয়াল করতে পারেন। এইজন্য আপনাকে একটি গোল্ড ফেসিয়াল কিট কিনে নিতে হবে।গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম সাধারণত ৩০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে গোল্ড ফেসিয়াল কিট কেনার আরো একটি উপকারীতা হল একটি গোল্ড ফেসিয়াল কিট কিনে নিলে আপনি কয়েকবার ফেসিয়াল করতে পারবেন। গোল্ড ফেসিয়াল কিট আপনি অনলাইন থেকেও কিনতে পারবেন। অনলাইনে গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম জানতে বা কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করে কিনতে পারেন। 

গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম

আমরা এখন জেনে নেব গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম সম্পর্কে। গোল্ড ফেসিয়াল করার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। এসব ধাপ অবলম্বন করে আপনি গোল্ড ফেসিয়াল খুব সহজেই করতে পারবেন। নিচে আপনাদের সাথে গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম শেয়ার করা হলো। 

ক্লেনজিং বা ত্বক পরিষ্কারঃ

গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম গুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো আপনার ত্বকে থাকা ময়লা পরিষ্কারের জন্য ত্বকে সাধারণ ক্লিনেজার লাগান এবং হাতের সাহায্যে ৫ মিনিট মত ভালভাবে মাসাজ করুন। এরপর পরিষ্কার তুলা বা তোয়ালের সাহায্যে  ত্বক মুছে  নিন। 

স্টিমঃ

স্টিম করার জন্য একটি পাত্রে পানি নিন এবং তা কিছুক্ষণ গরম করে ফুটন্ত অবস্থায় নিয়ে যান। এরপর মাথার উপর দিকে তোয়ালে দিয়ে বাষ্পের ওপরে আপনার মুখটি রেখে দিন। যেন পানি থেকে উঠা বাসবো আপনার মুখে লাগে। এইভাবে ৫ থেকে ৭ মিনিট মিনিট মুখে স্ট্রমিং করার পর মুখ তুলে নিয়ে তুলা বা তোয়ালে দিয়ে পরিষ্কার করেন। এতে করে  ত্বকের সব ময়লা দূর হয়ে যাবে এবং ত্বক হবে পরিস্কার। 

গোল্ড ফেসিয়াল কিট ব্যবহারঃ

প্রথমে আপনার গোল্ড ফেসিয়াল কিট থেকে গোল্ড ক্লিনেজার টি বের করে নিন। মুখ এবং গলায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন।পাচ থেকে দশ মিনিট ম্যাসাজ করার পর পরিষ্কার পানি অথবা তুলা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। 

আরো পড়ুনঃ রাম্বুটান ফল খাওয়ার ১২টি উপকারিতা

গোল্ড ফেসিয়াল ক্রিম ব্যবহারঃ 

এ পর্যায়ে প্রথমে পরিমাণ মত গোল্ড ক্রিম নিন। মুখে ও গলায় সমানভাবে গোল্ড ক্রিম লাগিয়ে নিন। ৫ থেকে ৭ মিনিট ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন এবং কিছু সময় অপেক্ষা করে  পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।  

গোল্ড ট্রিটমেন্ট প্যাক ব্যবহারঃ 

আমরা এই ফেসিয়ালে শেষ দিকে চলে এসেছি । শেষ ধাপে আপনার কিটে বিদ্যমান ট্রিটমেন্ট প্যাকটি পরিমাণমতো নিয়ে মুখে এবং গলায় লাগিয়ে নিন। কিছুসময় চুপচাপ শুয়ে অপেক্ষা করুন। গোল্ড ফেসিয়ালের ট্রিটমেন্ট প্যাকটি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানিতে হাত ডুবিয়ে আঙ্গুল দিয়ে আস্তে আস্তে মাস্কটি তুলে নিন। এরপর পরিষ্কার এবং শীতল পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।

আপনি উক্ত গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম গুলো অনুসরন করে খুব সহজেই একটি গোল্ড ফেসিয়াল কিট কিনে নিয়ে গোল্ড ফেসিয়াল করতে পারবেন। 

গোল্ড ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয়

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে গোল্ড ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয়। আসলে প্রত্যেকটি ফেসিয়াল করার একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। ঠিক তেমনি গোল্ড ফেসিয়ালও একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর করতে হয়। একবার গোল্ড ফেসিয়াল করা শুরু করলে ভাল রেজাল্ট পেতে সাধারণত ১৫ দিন বা ৩০ দিন পর পর গোল্ড ফেসিয়াল করতে হয়। তবে গোল্ড ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয় তা নির্ভর করে প্রত্যেকটি ব্যক্তির ত্বকের ওপর। কারো বয়স যদি বেশি হয় সেই ক্ষেত্রে একটু ঘন ঘন ঘন ফেসিয়াল করতে হবে আর কারও ত্বক যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে ৩০ দিন পর পর গোল্ড ফেসিয়াল করলেই হবে। তবে ঘন ঘন হলেও মাসে তিন বারের বেশি ফেসিয়াল করা যাবে না বেশি বেশি ফেসিয়াল করলে ত্বক অনেক পাতলা হয়ে যাবে। 

শেষ কথাঃ | গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা | গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা

প্রিয় পাঠক আমরা এই পোস্টের একদম শেষ দিকে চলে এসেছি। অনেকেই গোল্ড ফেসিয়াল করাতে চান তাদের ত্বক উজ্জল ফর্সা দেখানোর জন্য কিন্তু তারা সঠিকভাবে অবগত ছিলেন না গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা সম্পর্কে। তাদের সুবিধার্থে এই পোস্টে বিস্তারিত উল্লেখ করেছি, গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা গুলো সম্পর্কে।এছাড়াও এই পোস্টে আরো আলোচনা করেছি গোল্ড ফেসিয়ালের দাম, গোল্ড ফেসিয়াল কিট, গোল্ড ফেসিয়াল কিটের দাম, গোল্ড ফেসিয়াল করার নিয়ম, গোল্ড ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয় ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে।

আরো পড়ুনঃ পার্সিমন ফল খাওয়ার ১২ টি উপকারিতা

পোষ্ট টি আপনার কাছে উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন আপনার বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যেন তারা গোল্ড ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং গোল্ড ফেসিয়াল এর অপকারিতা গুলো জেনে নিতে পারেন খুব সহজেই। ১৬৮২১ 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন