OrdinaryITPostAd

ইন্টারনেট কি - ইন্টারনেট এর জনক কে - ইন্টারনেটের ইতিহাস ২০২৪

আমরা সবাই বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করি। ইন্টারনেট সম্পর্কে কিছুই জানে না এরকম মানুষ সভ্য সমাজে পাওয়া কঠিন। আমরা বর্তমানে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি সে ইন্টারনেট সম্পর্কে জানতে আমাদের অনেকের ইচ্ছা করে। আজকের পোস্টে আপনাদের জন্য ইন্টারনেটের সকল তথ্য নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি। আশা করি আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

ইন্টারনেট কি - ইন্টারনেট এর জনক কে - ইন্টারনেটের  ইতিহাস ২০২৩

ইন্টারনেট এর জনক কে, ইন্টারনেটের পূর্ণরূপ কি, ইন্টারনেট কত প্রকার, ইন্টারনেট কিভাবে উৎপন্ন হয়, ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে, ইন্টারনেটের বৈশিষ্ট্য, ইন্টারনেটের ইতিহাস, যদি এ সকল প্রশ্ন আপনার মনেও উঁকি দেয় তাহলে আজকের পোস্টটি পড়ুন। সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাবেন।

ইন্টারনেট এর জনক কে

ইন্টারনেটের জনক হল রবার্ট ই.কান এবং ভিনটন জি কার্ফ। বিশ্বে ইন্টারনেট চালু হয় ১৯৬৯ সালে। কোন একজন ব্যক্তি ইন্টারনেট আবিষ্কার করেননি। এটি ধাপে ধাপে উদ্ভাবিত হয়েছে। তবে এই দুই ব্যক্তিকে ইন্টারনেটের আবিষ্কারক বলা হয় । সাধারণত এই দুই জনকে ইন্টারনেটের জনক বলা হয়। কারণ দুইজন ইন্টারনেটের জনক(Transmision Contorl Protocol (TCP) and the Internet Protocol (IP) আবিষ্কার করেন।

ইন্টারনেটের পূর্ণরূপ কি

ইন্টারনেট একপ্রকার নেটওয়ার্ক সিস্টেম। আর এই ইন্টারনেটের পূর্ণরূপ হল ইন্টারকানেক্টেড নেটওয়ার্ক (Interconnected Network)। এটি বিশেষ সিক্রেট হয়ে বা রাউটারের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলোকে একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপন করে থাকে। তাই ইন্টারনেটকে সাধারণত নেটওয়ার্ক বলা হয়ে থাকে।

ইন্টারনেট কত প্রকার?

ইন্টারনেট বর্তমান যুগে মানুষের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আগে যে কাজ করতে অনেক সময় লাগতো তারা এখন ইন্টারনেটের সাহায্যে কয়েক মিনিটের মধ্যে করা সম্ভব হয়েছে।

ইন্টারনেট সাধারণত ছয় প্রকার। যথাঃ

  • ডায়াল –আপ (Dial-up Internet).
  • ডি এস এল (Digital Subscriber Line Internet).
  • স্যাটেলাইট (Satellite Internet).
  • ক্যাবল (Cable Internet).
  • ওয়ারলেস (Wireless Internet).
  • সেলুলার (Cellular Network Internet).

ইন্টারনেট কিভাবে উৎপন্ন হয়

বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহার করে না এমন কোন ব্যক্তিকে পাওয়া যাবে না। আমাদের মাথায় অনেক সময় এ প্রশ্ন আসতে পারে যে আমরা যে ইন্টারনেট ব্যবহার করি এটা কিভাবে উৎপন্ন হলো। তাহলে চলুন জানি এখন কিভাবে ইন্টারনেট উৎপন্ন হয়।

ইন্টারনেট কখনো উৎপত্তি হয় না। আমরা যেভাবে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করি তা পরস্পরের জন্য ভোগ করি। আচ্ছা যদি আপনি ইন্টারনেটের দিকে লক্ষ্য করেন। তাহলে আপনি ইন্টারনেট কোন প্রকার উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন না। উদাহরণস্বরূপ বিদ্যুৎ কোন প্রকার উৎপন্ন প্রক্রিয়া দেখতে পাবেন না। তারপরও আমরা সেই বিদ্যুতের ব্যবহার করে থাকি। অপরদিকে যদি বিদ্যুতের সাথে ইন্টারনেটের তুলনা করে থাকেন তাহলে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এরকম উৎপাদনকারী উৎস খুঁজে পাবেন না। বরং ইন্টারনেট কে শুধুমাত্র একটি সংযোগস্থলের সাথে তুলনা করা হয়। যখন আপনি ইন্টারনেট সংযোগের সাথে যুক্ত থাকবেন তখন আপনি এর ইন্টারনেট কে ব্যবহার করতে পারবেন।

ইন্টারনেট কি

ইন্টারনেট হল এক ধরনের নেটওয়ার্কের ভান্ডার। ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক হল পরস্পরের সাথে সংযুক্ত কয়েকটা কম্পিউটার দ্বারা নিজেদের তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। কম্পিউটার ডিভাইসকে নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট এর নেটওয়ার্ক একটি ফ্রেন্ড সার্কেলের সাথে সমন্বয় করা যেতে পারে। যার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ও একসাথে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা।

ইন্টারনেট কি - ইন্টারনেট এর জনক কে - ইন্টারনেটের  ইতিহাস ২০২৩

ইন্টারনেট শব্দের উৎপত্তি হলো Interconnected Network । ইন্টারনেট সাধারণত পৃথিবীতে বা সারা বিশ্বে একরকম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সমষ্টি যেগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে। এক কথায় বলা যায়, ইন্টারনেট হল পৃথিবীতে বিস্তৃত কম্পিউটার গুলোকে একত্র সংযুক্ত করে থাকে। নেটওয়ার্ক যেটা সারা বিশ্বে একটা অদৃশ্য জালের মত সরিয়ে রয়েছে আর এ জালের সাথে যুক্ত সব কম্পিউটার গুলো যেন পরস্পর সাথে খুব সহজে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। 

বর্তমানে এই কথা বলা যেতে পারে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত একটি মোবাইল ফোন হাতে থাকা মানে পুরো পৃথিবীতে নিজের রাজত্ব করা। ইন্টারনেটের সাহায্যে খুব সহজেই এক দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে খুব দ্রুত সম্ভব স্থাপন করা যায়।

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে

উপরের দিকে আমরা ইন্টারনেট কি তা জানলাম। এখন জানবো ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে।

ইন্টারনেটে মূল ভিত্তি হলো বিশ্বজোড়ে বিস্তৃত ফাইবার অপটিকাল কেবল। যেগুলো গোটা পৃথিবীতে সমুদ্র, পাহাড় ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। আপনার মাথায় একটা প্রশ্ন আসতে পারে। আমরা যারা মোবাইল ব্যবহার করি মোবাইলে তো কোন কেবল লাগানো থাকে না তাহলে ইন্টারনেট কিভাবে ব্যবহার করা যায়। তার কারণ হলো আমরা যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করি তা সাধারণত স্মার্টফোনগুলো সেল টাওয়ারের সাথে তারবিহীন যুক্ত থাকে।

কিন্তু সেই টাওয়ার গুলো ঠিকই কেবল এর মাধ্যমে ইন্টারনেট বাকবনের সাথে যুক্ত থাকে। আবার যদি আমরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করি তাহলে আমাদের ফোন বা ল্যাপটপ আমাদের রাউটারের সাথে যুক্ত থাকে তার বিহীনভাবে কিন্তু রাউটারটি ক্যাবলের সাহায্যে ইন্টারনেট সংযুক্ত করা হয়। এতে সারা বিশ্বে কম্পিউটার গুলো একে অন্যের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। 

কম্পিউটারে যেগুলো ইলেকট্রিক লাইট বাল্ব হিসেবে আদান প্রদান করে সেগুলো বিটস(Bits) বলা হয়। যা সাধারণত রেডিও তরঙ্গ বা কেবলগুলো এই (Bits) গুলোকে আলোর বেগে পরিবহন করে। একসাথে যত বেশি (Bits) পরিবহন করে ইন্টারনেট গতি তত বেশি বাড়ে।

ইন্টারনেটের বৈশিষ্ট্য 

বিশ্বের বৃহত্তম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোন ব্যক্তি বা সংস্থা বা দেশের মালিকাধীন নয়। বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের গ্রাহকের অনেক সময় জানায় থাকে না যে তথ্য তিনি আহরণ করছেন। সেই দাতা কম্পিউটার পৃথিবীর কোথায় অবস্থিত এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে কোন পথ ধরে ঘুরে আসে এই তথ্য আসছে।

ইন্টারনেট এর ইতিহাস

এর পরবর্তী ধাপে ১৯৯১ সালে মিনিসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম ব্যবহার উপযোগী ইন্টারনেট ইন্টারফেস তৈরি করে। যেটা বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য ফাইলস আদান-প্রদান অনেক সহজ করে দেয় পরবর্তীতে নেভাডা বিশ্ববিদ্যালয় আরো উন্নয়ন করতে থাকে।

তখনকার সময়ে ইন্টারনেট খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছিল এবং উদ্দেশ্য পরিবর্তন হচ্ছিল তাই হাজার ১৯৯৫সালে মে মাসে ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন (NSFNET) এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যার ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সীমাবদ্ধ গুলো দূর হতে থাকে এবং এটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি আরপা(ARPA) পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারে মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় গড়ে তোলে। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় নেটওয়ার্ক আরপানেট নামে পরিচিত । নেটওয়ার্ক চালু হওয়ার পর একটি সংস্থা অন্য একটি সংস্থার সাথে তথ্য ফাইলস আদান প্রদান করতে পারত। পরবর্তীতে (ARPANET) নামটিকে পরিবর্তন করে ইন্টারনেট দেয়া হয়।

প্রথম দেখে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ারিং এর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এটি মানুষের মধ্যে ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি করে।

১৯৭০ দশক ছিল আধুনিক কম্পিউটার ব্যবস্থার আধুনিকতার ছোঁয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৯৭২ সালে ইমেইল(Email) সেবা চালু হয়। সারা বিশ্বে সমস্ত লাইব্রেরীগুলো একত্রে যুক্ত হয় সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এটি ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল প্রটোকল এবং ইন্টারনেট প্রোটোকল (Tct/tp) তৈরি হয় যেটা তথ্য আদান প্রদানকে অনেক সহজ করে তোলে।

পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের দা ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন সারা দেশে বিস্তৃত সুপার কম্পিউটার একটি নেটওয়ার্কের (NSFNET) মাধ্যমে ইন্টারনেট বিকাশ কে পরবর্তীতে পর্যায়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে সুপার কম্পিউটার গুলো মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কম্পিউটারের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ইন্টারনেটের সুবিধা ও অসুবিধা

ইন্টারনেটের সুবিধাগুলো হলঃ বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণা সংক্রান্ত নিত্য নতুন বহু তথ্য অনাসি ইন্টারনেট থেকে পাওয়া সম্ভব।ইন্টারনেটে প্রশ্ন লিখে সহজে সরাসরি উত্তর পাওয়া যায় তথ্যগুলি সম্পর্কে সহজেই জ্ঞান অর্জন করা যায়। দেশ-বিদেশের খবর খুব সহজে অল্প সময়ে পাওয়া সম্ভব। নানা ধরনের অনলাইন লাইব্রেরী থেকে মূল গ্রন্থের কপি পাওয়া সম্ভব।

ইন্টারনেটের অসুবিধাগুলো হলঃ বর্তমানে সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে সমগ্র গ্রন্থ পাঠের অভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে । সব বইয়ের সংরক্ষণ মেলেনা। যদি মিলে তা অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। ইন্টারনেটে আজকাল কেউ নিজের মনগড়া ভুল তথ্য আপলোড করছে তা পড়তে গিয়ে পাঠক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

সর্বশেষ কথা - ইন্টারনেট কি - ইন্টারনেট এর জনক কে - ইন্টারনেটের  ইতিহাস ২০২৪

বন্ধুরা, নিশ্চয়ই আপনাদের ইন্টারনেট এর জনক কে, ইন্টারনেটের পূর্ণরূপ কি, ইন্টারনেট কত প্রকার, ইন্টারনেট কিভাবে উৎপন্ন হয়, ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে, ইন্টারনেটের বৈশিষ্ট্য, ইন্টারনেটের ইতিহাস, প্রশ্নের সকলের উত্তর দিতে পেরেছি। যদি আপনাদের সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারি তাহলে আমরা খুব আনন্দিত। আশা করি উপকৃত হয়েছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন