খাঁটি ঘি বানানোর নিয়ম - খাঁটি ঘি খাওয়ার ১২টি উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

বন্ধুরা, আপনি কি খাঁটি ঘি বানানোর নিয়ম, খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা জানতে চান। তাহলে আজকের পোস্ট আপনার জন্য। আজকের পোস্টে ভোরের আলো আইটির পক্ষ থেকে খাঁটি ঘি বানানোর নিয়ম,খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করবো। বিস্তারিত জানতে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন।




খাঁটি ঘি খাওয়ার নিয়ম | খাঁটি ঘি খাওয়ার ১২টি উপকারিতা "উপস্থাপনা"

খাঁটি ঘি আমরা সকলেই চিনি। খাঁটি ঘি বিভিন্ন খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করতে ব্যবহার করা হয়। পোলাও, কোরমা ও বিরিয়ানি খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি ও মুখরোচক খাদ্য তৈরিতে খাঁটি ঘি এর বিকল্প নেই। খাঁটি ঘি কে বলা হয় ক্লারিফায়েট বাটার। খাঁটি ঘিয়ে থাকা ফসফোলিফিড আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানেনা। আজকের পোস্ট তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুরা, আজকের পোস্টে খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা, খাঁটি ঘি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো।

খাঁটি ঘি খাওয়ার ১২টি উপকারিতা 

ওজন বাড়াতে | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

খাঁটি ঘি চর্বিযুক্ত খাবার আর তাই যারা ওজন বাড়াতে চান তারা প্রতিদিন হালকা কুসুম গরম পানিতে খাঁটি ঘি মিশিয়ে সেবন করবেন। তাহলে ওজন বৃদ্ধিতে উপকার পাবেন।

কোলেস্টেরল মাত্রা বাড়াতে | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

খাঁটি ঘি কোলেস্টেরল যুক্ত একটি খাবার যা দেহের খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে ভালো কোলেস্টেরল মাত্রা বাড়াতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ডায়াবেটিস কন্ট্রোল  | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

খাঁটি ঘি আছে বিউটারিক অ্যাসিড যা ইন্টেস্টাইনর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণ রাখে। ফলে ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে বেশ উপকারী ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

খাঁটি ঘিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে। যা দৃষ্টিশক্তির জন্য বেশ উপকারী। নিয়মিত খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

স্মৃতিশক্তি উন্নতি ঘটে | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত খাঁটি ঘি খেলে স্মৃতিশক্তি উন্নতি ঘটে। খাঁটি ঘি খেলে ব্রেন ভালো থাকে দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। এবং কাজ করার মনোযোগ সৃষ্টি করে। তাই আমাদের খাঁটি ঘি খাওয়া উচিত।

গ্লুকোমা রোগীদের জন্য | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত খাঁটি ঘি খাওয়া গ্লুকোমা রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। যারা এইে রোগে ভুগছেন তারা পরিমাণমতো খাঁটি ঘি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে খাঁটি ঘি গ্লুকোমা  রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

পোড়া ক্ষত সারাতে  | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

এক চা চামচ খাঁটি ঘি দুই চামচ মধু এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীরের পোড়া ক্ষত সারাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

রান্না করার জন্য  | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

খাঁটি ঘি পুষ্টির চাহিদা মেটায় তাছাড়া রান্না করার জন্য খাঁটি ঘি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া খাবারের উজ্জ্বল ও সুন্দর দেখানোর ক্ষেত্রে বেশ উপকারী।

প্রোটিনের চাহিদা মেটায় | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

খাঁটি ঘি আমাদের শরীরে শর্করার চাহিদা পূরণ করে। শরীরে শক্তি বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটায় এবং ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

খাঁটি ঘিতে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। খাঁটি ঘি আমাদের দেহের ইমিউনিটির পরিমান বৃদ্ধি করে। নিয়মিত খাঁটি ঘি খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

 ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

গরমের দিনে ঘি খাওয়া বেশ উপকারী কারণ খাঁটি ঘি গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে | খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা

ঘি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। নিয়মিত খাঁটি ঘি খেলে ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর দেখায়। এতে রয়েছে রিবোফ্লাভিন যা ত্বক ও মুখের ঘাসহ বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে বেশ কার্যকরী।

খাঁটি ঘি বানানোর নিয়ম

বাটার ঘি
প্রথমে একটি করায় বা প্যান চুলায় দিয়ে গরম করে নিন। এক কাপ আনসল্টেড বাটার টুকরা কেটে নিন। তারপর গরম করায় বা প্যানে বাটার দিয়ে দিন। সব সময় দেখতে হবে চুলার তাপ যেন মিডিয়াম থেকে লো হিটের হবে। ঘি তৈরির প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন পর্যন্ত। বাটার গলে বুদবুদে বা ফেনা উঠে আসবে। এ প্রক্রিয়ায় ফেনা আস্তে আস্তে কমে যাবে। কিছুক্ষণ পরে নেড়ে দিতে হবে আর খেয়াল রাখতে হবে যেন প্যানের সাথে লেগে বা পুড়ে না যায়। যখন দেখতে পাবেন বুদবুদে অর্থাৎ বাবুল বড় হয়ে উঠছে তখন খাঁটি ঘি শীঘ্রই হয়ে যাবে। ফেনার রং গারো বাদামি হওয়ার পর নামিয়ে ফেলুন। অতঃপর এটি সাঁকুনি দিয়ে সেকে নিন আপনার তৈরি হয়ে যাওয়া খাঁটি ঘি।

দুধের ঘি
প্রথমে দুধ থেকে সর আলাদা করে নিন। তারপর মিহি করে বেটে নিন দুধের সর। বাটা দুধের সর পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। খুব সাবধানে পানি থেকে সর আলাদা করুন। শর থেকে পানি আলাদা করার জন্য পাতলা কাপড়ে কয়েক ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখতে পারেন সর। পানি সম্পন্ন ঝরে গেলে করায় বা প্যানে লো থেকে মিডিয়াম আঁচে দুধের বাটা সর নড়াচাড়া করতে থাকুন। সরের উপর নির্ভর করে খাঁটি ঘি হতে কতটুকু সময় লাগবে।দেখবেন ধীরে ধীরে করায় বা পেনের তলায় খাঁটি ঘি জমতে শুরু করছে। এভাবে তৈরি হয়ে যাবে  দুধের সরের খাঁটি ঘি ।
এই খাঁটি ঘি বোতলে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন সে ক্ষেত্রে আপনার খাঁটি ঘি এর মেয়াদ হবে এক মাস। আর যদি আপনি ফ্রিজে রাখেন সেক্ষেত্রে ছয় মাস মেয়াদ থাকবে।

ঘি খাওয়ার নিয়ম

আমাদের শরীরের জন্য পুষ্টিকর এই খাবার খাঁটি ঘি খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সব থেকে ভালো উপকার পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেতে খাঁটি ঘি খাওয়া দরকার। নিয়মিত সকালে এক গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানিতে ১-চামচ খাঁটি ঘি মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এভাবে নিয়ম মেনে খাঁটি ঘি খেলে আপনার চুল পরাসহ আরো অনেক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করবেন। সকালে খাঁটি ঘি খাওয়ার পর ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো খাবার খাবেন না। খালি পেতে খাঁটি ঘি খাওয়ার ফলে দেহের কোষের কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

সর্বশেষ কথা

বন্ধুরা, নিশ্চয়ই আপনাদের বুঝতে পেরেছি খাঁটি ঘি বানানোর নিয়ম, খাঁটি ঘি খাওয়ার উপকারিতা, খাঁটি ঘি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। যারা বুঝতে পারেননি তারা সম্পূর্ণ পোস্টটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে আবার পড়ুন তাহলে নিশ্চয়ই পারবেন। এতক্ষন আমাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্ট পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন