আতাফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

আতাফল আমরা সবাই চিনি। মিষ্টি স্বাদের একটি দেশীয় ফল হল আতাফল। আতাফল দেখতে যেমন সুন্দর ঠিক খেতে দারুণ সুস্বাদু। এছাড়া আতাফল আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী কারণ এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন ও উপাদান ও ভিটামিন এ' ভিটামিন সি' আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। যা আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে আতাফলের বীজে বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। তাই আতাফল খাওয়ার আগে আতাফল সম্পর্কে জানতে হবে। আসুন জেনে নেয়া যাক, আতাফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে ।



প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা জানতে চেয়েছেন আতাফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। আজকের পোস্টে ভোরের আলো আইটির পক্ষ থেকে আতাফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানাবো। বিস্তারিত জানতে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন।

আতাফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা "উপস্থাপনা"

গ্রীষ্মকালীন একটি ফল হলো আতাফল। এই ফলের ভিতরে থাকে ছোট ছোট কোয়া বা কোষ। প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে একটি করে বীজ, বীজকে ঘিরে থাকা নরম ও রসালো আতাফলটি খেতে অনেক সুস্বাদু। পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা। ফলটি শুধু পাকলেই খাওয়া যায়। এই ফলটির অনেক পুষ্টিগুণ। তবে এই আতাফলে যেমনি উপকারিতা রয়েছে তেমনি অপকারিতা রয়েছে। তাই আতাফল সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

আতাফল খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

আতাফলে রয়েছে পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া আতাফল খেলে আমাদের শরীরের ভিতরে জমে থাকা খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে ভালো কোলেস্টেরল মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ত্বকের যত্নে | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

আতাফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহের ফ্রি রেডিকেল নিয়ন্ত্রণ করে। এবং ত্বককে রক্ষা করে থাকে। এছাড়াও ত্বকের বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণে উপকারী এই ফল। এই ফলে থাকা ভিটামিন এ' ভিটামিন সি' চুল,চোখ, ও ত্বকের জন্য খুবই কা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

আতাফলে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়া বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে থাকে। ফলে শরীর সুস্থ থাকে।

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

আতাফলে রয়েছে পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি6 যা আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে । রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

বর্তমানে ডিজিটাল যুগে ফোন ও কম্পিউটার বেশি ব্যবহার করার জন্য আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই কমে যাচ্ছে। আর তাই দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর জন্য আমাদের আতাফল খাওয়া উচিত। কারণ আতাফলে ভিটামিন এ' ভিটামিন সি ও রাইবোফ্লোভিন উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। যা আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

ওজন বাড়াতে | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য এই আতা ফল।কারণ আতাফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি যা ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আতাফল খেলে ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে  সাহায্য করবে।

মানসিক চাপ কমাতে | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

আমাদের শরীরে ভিটামিন বি6 এর অভাব পূরণ করে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কারণ আতাফল নিউরো ট্রান্সমিটারে ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে মানসিক চাপ কমে যায়। এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা

আতাফলে রয়েছে ফসফরাস ও উচ্চ ফাইবার যা আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এবং পেটের ভেতরে জমে থাকা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে হজমে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের কার্যকরী | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

আতাফলে প্রচুর পরিমাণ ডায়েটেরি ফাইবার রয়েছে, এটি দেহের চিনির শোষণ ধীর করতে সহায়তা করে। ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

 উকুনের আক্রোমণ থেকে রক্ষা | আতাফল খাওয়ার উপকারিতা 

আতাফলে থাকা এনজাইম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাথার ত্বকে উকুনের আক্রমণ প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করতে দুর্দান্ত। আতাফল ব্লেন্ডার পেস্ট করে মাথায় দিলে মাথার ত্বকে সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এটি মাথার ত্বককে শক্তিশালী করে, স্বাস্থ্যকরও রাখে এবং উকুনের আক্রোমণ থেকে রক্ষা করে।

আতাফল খাওয়ার অপকারিতা

  • আতাফলের খোসা এবং বীজে বিষাক্ত যৌগ থাকে। যা আমাদের ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। এবং চোখের ক্ষতি হতে পারে। তাই আতাফল খাওয়ার সময় প্রথমে খোসা এবং বীজগুলি অবশ্যই বেশি রাখা উচিত।
  • আতাফল একটি ঠান্ডা জাতীয় ফল। আর তাই যেসকল সংস্থা মানুষের খুব অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যায় তারা এই ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
  • আতাফল প্রতিদিন খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং কিছু কিছু মানুষের ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আতাফল সপ্তাহে ১ দিনের বেশি খাওয়া উচিত নয়।

প্রতি ২৫০ গ্রাম আতাফলে পুষ্টিগুণ রয়েছে-

  • ক্যালরি – ২৩৫
  • প্রোটিন – ৫.২ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট – ৫৯ গ্রাম
  • ফাইবার – ১১ গ্রাম
  • ফ্যাট – ৭২৫ মি.গ্রা.
  • ভিটামিন এ – ১৫ আইভি
  • ভিটামিন সি – ৯১ মি.গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম – ৬০ মি.গ্রাম
  • আয়রন -১০৫ মি.গ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম -৫৩ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস -৮০ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম – ৬১৮ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম -২৩ মিলিগ্রাম

সর্বশেষ কথা

বন্ধুরা, নিশ্চয়ই আপনাদের বোঝাতে পেরেছি আতাফল খাওয়ার উপকারিতা, অপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। যারা বুঝতে পারেননি তারা মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন পোস্টটি পুনরায় পড়ুন। তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post