জলপাই খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

জলপাই খাওয়ার উপকারিতা - জলপাই এক ধরনের টক ফল। গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি সবাই পছন্দ করেন। শীতের বিভিন্ন রকম ফলের মধ্যে সকলের পরিচিত ও পুষ্টিকর জাতীয় ফল। জলপাইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। যা আমাদের শরীরে অনেক উপকার করে।আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক, জলপাই খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

জলপাই খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

বন্ধুরা, আজকের পোস্টে জলপাই খাওয়ার উপকারিতা, জলপাই খাওয়ার নিয়ম ও জলপাইয়ের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আলোচনা করবো বিস্তারিত জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

জলপাই খাওয়ার উপকারিতা "উপস্থাপনা"

জলপাই একটি টক ও মিষ্টি জাতীয় ফল। জলপাই ফলের তেল, পাতা, শিকড় বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। জলপাই ফল দেখতে কালো ও সবুজ রঙের হয়ে থাকে। জলপাই  কাঁচা, পাকা, সিদ্ধ করা ও আচার বানিয়ে খেয়ে থাকি। জলপাই অক্টোবর ও এপ্রিল মাসে পাওয়া যায়। জলপাই অনেক স্বাস্থ্যকরী উপাদান রয়েছে। নিয়মিত জলপাই খেলে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া জলপাই তেল বানিয়ে আমরা ব্যবহার করতে পারি। তাহলে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক, জলপাই খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

জলপাই খাওয়ার ১৪টি উপকারিতা 

চোখের যত্নে | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা 

জলপাইয়ে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। চোখের জন্য ভালো এছাড়া জীবাণু আক্রমণ, চোখ ওঠা, চোখের পাতায় ইনফেকশনজনিত সমস্যা দূর করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা  বাড়ায় | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি আছে। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে মনো-স্যাচুরেটেড আছে। এছাড়া জলপাইয়ে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান। বয়স বৃদ্ধির কারণে মানুষের হাড়ের ক্ষয় ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পায়। জলপাইয়ে থাকা মনো-স্যাচুরেটেড হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।

অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে থাকে ভিটামিন সি। যা ত্বকের ইনফেকশন দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। জলপাই অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

আয়রনের ঘাটতি পূরণ | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়। আয়রন আমাদের দেহের রক্ত চলাচল করতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক এই ফল জলপাই আমাদের দেহে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে।

ত্বকের ও চুলের যত্নে  | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ের তেলের রয়েছে ফ্যাটিক এসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বক চুলের যত্নে কাজ করে। জলপাইয়ের তেল চুলের গোড়ায় লাগালে চুলের গোড়া অনেক মজবুত ও শক্ত হয়। এতে চুল পড়া সমস্যা দূর হয়।

টিউমার ও দাঁতের ক্যাভিটি দূর করতে | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা দাঁতের গোড়া মজবুত করে এবং দাঁত শক্ত করার পাশাপাশি ক্যাভিটি বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়াও টিউমার ধীরে ধীরে বাড়ে। জলপাইয়ে থাকা ভিটামিন সি টিউমারের ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ  | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন তারা জলপাই খেতে পারেন। জলপাই টক জাতীয় ফল। জলপাই চিনির পরিমাণ কম থাকায়। জলপাই রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখে।

লোহার ঘাটতি মেটায় | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাই লোহের বড় উৎস। যাদের শরীরের অক্সিজেন চলাচলের জন্য রক্তে লোহিত কণিকার অভাবে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা এই জলপাই ফলটি খেতে পারেন। কারণ জলপাই শরীরে থাকা এনজাইমকে লোহ চাঙ্গা করে। ফলে রক্তের লোহিত কণিকা অক্সিজেন সচল থাকে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ের ভিটামিন ই থাকে। যা ফ্রী যারডিকেল ধ্বংস করে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে। কোষের অস্বাভাবিক গঠনে বাধা দেয়। ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে থাকা পলিফেনল এক ধরনের প্রাকৃতিক কেমিক্যাল এটি মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। তাই নিয়মিত জলপাই খেলে আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

আমাদের শরীরে রক্তে ক্ষতিকর মুক্ত কণিকা ফ্রি র্যাডিকেল ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় তখন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। জলপাইয়ের তেল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া জলপাইয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে যায়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত জলপাই খেতে পারেন।

পিত্তথলিতে পাথর জমতে বাধা দেয় | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত জলপাই খেলে পিত্তথলির পিত্তরস সঠিকভাবে কাজ করে। ফলে আমাদের শরীরের পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা কমে যায়। তাই পিত্তথলির পাথর জমা প্রতিরোধ করতে আমরা জলপাই খেতে পারি।

জলপাইয়ের আচার | জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাই নানা রকম পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল।জলপাইয়ের যেমন খালি খাওয়া যায় ঠিক তেমনি জলপাইয়ের মুখরোচক আচার তৈরি করে খাওয়া যায়। যাদের মুখে রুচি নেই তারা জলপায়ের আচার তৈরি করে খেতে পারেন। এতে মুখের রুচি বাড়বে। এছাড়া জলপাইয়ের আচার তৈরি করে সারা বছর জলপাইয়ের স্বাদ পেতে পারেন।

জলপাই খাওয়ার নিয়ম

জলপাই শীতকালীন ফল, এই ফলটির স্বাদ টক, তবে এর অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এই ফলটি কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায় আবার পেকে গেলেও খাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ভর্তা করে, আচার বানিয়ে এবং রান্না করেও খাওয়া যায়। 

তবে জলপাইয়ের আচার খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই সকালের নাস্তা খেয়ে নিতে হবে। খালি পেটে অধিক পরিমাণে জলপাই ফেলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।। জলপাইয়ে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে, তাই শরীর স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে পরিমাণ মতো জলপাইয়ের আচার খাওয়া, কাঁচা জলপাই, রান্না করা জলপাই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। এছাড়াও জলপাই আমাদের শরীরের নানা রোগের ঔষধি হিসেবেও কাজ করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ে পুষ্টিগুণ উপাদান রয়েছে

খাদ্যশক্তি ১৪৬ কিলোক্যালরি, শকরা ৩.৮৪ গ্রাম, চিনি ০.৫৪ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ৩.৩ গ্রাম, চর্বি ১৫.৩২ গ্রাম, আমিষ ১.০৩ গ্রাম, ভিটামিন এ ২০ আইইউ, বিটা ক্যারোটিন ২৩১ আইইউ,থায়ামিন ০.০২১মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবি ০.০০৭ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২৩৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩১ মিলিগ্রাম, ফোলেট ৩ আইইউ, ভিটামিন ই ৩.৮১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন কে ১.৪ আইইউ, ক্যালসিয়াম ৫২ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩.১ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১১মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৪ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৪২ মিলিগ্রাম

সর্বশেষ কথাঃ জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

বন্ধুরা, নিশ্চয়ই আপনাদের বুঝাতে পেরেছি জলপাই খাওয়ার উপকারিতা, জলপাই খাওয়ার নিয়ম, জলপাইয়ের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। জলপাইয়ের অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে তাই নিয়মিত খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো। এতক্ষণে আমাদের সঙ্গে থেকে পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

Next Post Previous Post