কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য ভোরের আইটির পক্ষ থেকে আজকের পোস্টে কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪ নিয়ে সাজিয়েছি। ডিমের জন্য কোন মুরগি ভালো। কোন মুরগি বেশি ডিম দেয়। অনেকে আছে সঠিক নিয়মে মুরগি পালন না করে লাভবান হতে পারেন না। কোন মুরগি নিয়ে ব্যবসা বেশি লাভ ২০২৪ এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আপনি নিশ্চয়ই আমাদের এই পোস্টটি ওপেন করেছেন। তাই আপনাদের জন্য আজকের এই পোস্টে কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪ সে বিষয়ে বিস্তারিত আপনাদের জানাবো। 

কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

আমাদের দেশে বিভিন্ন ব্যবসার ভিতরে মুরগি পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। বাংলাদেশে অনেক মানুষ মুরগি ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করে থাকে। তাই আজকের পোস্টে কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৩ এ বিষয়ে জানতে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়ুন। তাহলে জানতে পারবেন কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪ সম্পর্কে।

কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

বাংলাদেশে অনেক ব্যবসা রয়েছে। আপনারা যদি গ্রামের মানুষ হয়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই শুনে থাকবেন আপনাদের গ্রামে অনেকেই খামার দিয়ে মুরগি পালন করে মুরগির ব্যবসা করে থাকে। মুরগির ব্যবসা করে অনেক ভালো অর্থ উপার্জন করে। অনেকেই আছে আবার মুরগির খামারে সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে মুরগির খামার করে লাভবান হতে পারে না। 

বাংলার গ্রাম অঞ্চলে এখন বর্তমান যুগে কৃষি অধিদপ্তরের অফিসার থেকে এবং মাঠকর্মী যারা আছেন তারা যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে থাকেন কোন মুরগি পালনের লাভ বেশি ২০২৪। এবং কিভাবে পরিচর্যা করলে মুরগি থেকে ভালো অর্থ উপার্জন করা যেতে পারে। 

ছোট্ট একটি ব্যবসার মধ্যে মুরগির ব্যবসা যা আমাদের দেশে অনেকেই এই ব্যবসাটি করে থাকেন। তবে মুরগির ব্যবসা করার আগে জানতে হবে। কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪। কোন মুরগি বেশি ডিম দেয়। কোন মুরগির মাংস বেশি হয়। কোন মুরগি অল্প সময়ে কি খাবার দিলে বেড়ে ওঠে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মুরগির খামার করা হয়ে থাকে। তবে সবথেকে ভালো হয় যদি দেশি মুরগি পালন করা যায়। কারণ দেশি মুরগি পালনে সবচাইতে বেশি লাভবান হওয়া যায়। এখন আমরা জানব কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪।

অন্যান্য মুরগি এক বছরের উৎপাদনের খরচের তুলনায় দেশী মুরগি উৎপাদন খরচ অনেক কম। তাই দেশি মুরগি পালন লাভজনক । অন্যান্য মুরগির বাচ্চা অপেক্ষা দেশি মুরগির বাচ্চা তুলনা মূলক কম দামে পাওয়া যায়। অন্যান্য মুরগির বাচ্চা তুলনায় দেশি মুরগির বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। তাহলে বন্ধুরা আপনারা তো জানতে পারলেন কোন মুরগি পালনের লাভ বেশি ২০২৪ সম্পর্কে।

দেশি মুরগির খামারে লাভ হওয়ার কারণ - কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

অন্যান্য মুরগির তুলনায় দেশি মুরগি অনেক দ্রুত বড় হয়ে ওঠে। দেশি মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য মুরগির থেকে বেশি। অন্য জাতের মুরগি যদি পালন করা যায়। সে ক্ষেত্রে পালন করা অবস্থায় যদি একবার অসুখ দেখা যায়। দেশি মুরগির তুলনায় মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই যদি আপনি খামার করতে চান সে ক্ষেত্রে দেশি মুরগি নিয়ে খামার করতে পারেন। এতে খরচ অনেক কম এবং লাভ অনেক বেশি পাওয়া যায়।

বিদেশী জাতের মুরগি এক বছরে মাংসের উৎপাদন তুলনায় দেশি মুরগির উৎপাদন খরচ অনেক কম। তাই দেশি মুরগি পালন করার সুবিধা লাভজনক। বিদেশে মুরগির তুলনায় দেশি মুরগির বাচ্চা অনেক কম দামে পাওয়া যায়। এর ফলে খামার করার সময় দেশি মুরগি কিনলে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। বিদেশি মুরগি দ্রুত উৎপাদন করা গেলেও দেশি মুরগির তুলনায় বিদেশে মুরগির ক্ষেত্রে খরচ অনেক বেশি হয়ে যায়। 

সে ক্ষেত্রে দেখা যায় মুরগি পালন করার পরও খামারীদের ব্যবসার তেমন একটা লাভ দেখা যায় না। বাংলাদেশের যেহেতু মুরগির খামারের সংখ্যা অনেক বেশি সেক্ষেত্রে দেখা যায় মুরগির ব্যবসা করার সময় মুরগির দাম অনেক সময় কম বেশি হতে থাকে। আর তাই লাভের তুলনায় লস বেশি দেখা যায়। বিদেশি মুরগির বিকল্প হিসেবে আপনি দেশি মুরগি দেখেন সে ক্ষেত্রে দেশি মুরগির পালনে খরচ অনেক কম হয় এবং বেশি লাভবান হওয়া যায়।

কম খরচে দেশি মুরগির খামার - কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

অনেকে আছে যারা অর্থের অভাবে খামার দিতে পারেনা। তারা অল্প পুঁজি নিয়ে দেশি মুরগি খামার চালু করতে পারেন। আমাদের দেশে অনেক বেকার যুবক রয়েছে যারা চাকরি অভাবে ঘরে বসে দিন কাটাই। তারা চাইলে চাকরির পিছনে না ছুটে নিজে উদ্যোক্তা হিসেবে একজন ভালো খামারি হয়ে উঠতে পারে। স্বল্প পুঁজির ব্যবসা হিসেবে মুরগির খামার করে মুরগির ব্যবসা করে আপনি লাভবান হতে পারবেন। কম খরচে কিভাবে খামার তৈরি করে মুরগি পালনে লাভবান হওয়া যায় তা নিচে আলোচনা করা হলো।

কম খরচে দেশি মুরগির খামার

দেশি মুরগি পালনের ঘরঃ আপনি যদি খামার করতে চান সেক্ষেত্রে প্রতি ১০ থেকে  ১৫টি দেশি মুরগির জন্য আপনি আমাদের এই পদ্ধতি অনুযায়ী ঘর তৈরি করতে পারবেন। দেশি মুরগির ঘরের মাপ হলঃ ৫ মিটার ৫ ফুট লম্বা, ১.২ মিটার ৪ ফুট চওড়া, ১ মিটার ৩.৫ ফুট উচ্চতা। ঘরের বেড়া বাস অথবা কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে। এছাড়া মাটির দেয়াল তৈরি করে নিতে পারেন।

আপনি প্রথমত ৫০০টি মুরগি নিয়ে আপনার স্বল্প পুঁজি ও কম খরচে খামারটি তৈরি করবেন। খামারটা তৈরি করার সময় দেখবেন যাতে করে ৫০০ থেকে ১০০০ মুরগি পালন করার জন্য ঘরটা পারফেক্ট ভাবে তৈরি করা হয়।

দেশি মুরগি পালনে করণীয় - কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

দেশি মুরগির বাচ্চাঃ মুরগি পালনের সবচাইতে বড় গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশি মুরগির বাচ্চা নির্বাচন করা। দেশি মুরগির বাচ্চা নেয়ার সময় অবশ্যই সঠিক মানের সুস্থ সবল হতে হবে। দেশি মুরগির বাচ্চা নির্বাচন করতে যদি ভুল হয়। তাহলে আপনি কখনোই মুরগির খামার করে লাভবান হতে পারবেন না। বাচ্চাদের অনেক সময় অনেক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

তাই বাচ্চার কেনার সময় অবশ্যই নিজে ভালোভাবে বাচ্চার মান সুস্থ সবল সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে বাচ্চা নির্বাচন করতে হবে। মনে রাখবেন ভালো দেশি মুরগির বাচ্চা নির্বাচনে করে আপনি একজন ভাল খামার তৈরি করতে পারবেন। মুরগির খামারের ক্ষেত্রে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে একটি মুরগির বাচ্চা নির্বাচন।

দেশি মুরগির বাচ্চা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত খাবারঃ দেশি মুরগি পালন করতে হলে অবশ্যই আপনাকে খাবারের দিকে নজর রাখতে হবে। কারণ সঠিক খাবার ও সঠিক পুষ্টি আপনার দেশি মুরগিকে সুস্থ এবং বাজারজাত করতে সহায়তা করবে। তাই ভালো কোম্পানির মান সম্পন্ন মুরগির খাবার নিতে হবে। মুরগি বাচ্চা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত মুরগির খাবারের তালিকা নির্বাচন করতে হবে। 

ছোট বাচ্চা জন্য আলাদা রকমের খাবার, বড় হলে আরেকটু পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে খাবার দিতে হবে। আবার যখন ডিম পাড়ার সময় হবে তখন মুরগির খাবারের পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে হবে। এভাবে আপনি পরিচর্যা করলে আপনি দেশি মুরগির ভালো খামারি হয়ে উঠতে পারবেন । দেশি মুরগির খামারির ব্যবসা করে আপনি খুব সহজেই ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

দেশি মুরগির খাদ্যাভ্যাস অন্য জাতের মুরগি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে। দেশি মুরগির খাবার হিসেবে সাধারণত ভাত, ছোট মাছ, গমের ভুষি, চাউলসহ মানুষের খাবারের ঝুটা খাবার বা বেঁচে যাওয়া খাবার। তবে যারা খামারে বা আবাদ্ধভাবে মুরগি পালন করেন। তারা এই পুষ্টিকর খাদ্য মুরগিকে দিতে পারেন।

মুরগির জন্য লিটারঃ মুরগির খাবার পর্যবেক্ষণ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই মুরগির লিটার সম্পর্কে জানতে হবে। লিটার কখন সমস্যা হচ্ছে বা নষ্ট হচ্ছে, নাড়া দিতে হবে, পাল্টাতে হবে জন্য আপনাকে জানতে হবে।

মুরগির ঘরে পর্দার ব্যবহারঃ মুরগি পালন করতে হলে অবশ্যই আপনাকে পর্দার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক শীত হলে ঘরের চারদিকে পর্দা ঢেকে রাখতে হবে। কারণ অক্সিজেন ঠিকমতন সরবরাহ করতে না পারে তাহলে মুরগি মারা যেতে পারে। তাই সব সময় আপনার হাতের বাদ পরপর এক হাত জায়গা রেখে দিয়ে পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখবেন। যেন মুরগির ঘরে অক্সিজেন ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারে।

দেশি মুরগি পালন প্রশিক্ষণ - কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

আপনি যদি দেশি মুরগির খামার নিয়ে পরিকল্পনা করে থাকেন। তাহলে আপনাকে অবশ্যই দেশি মুরগির খামার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আপনি যদি দেশি মুরগি পালন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি মুরগি ফার্ম করতে পারেন। এতে করে আপনি অনেক লাভবান হতে পারবেন। 

বাংলাদেশে যেখানে থেকে আপনি প্রশিক্ষণ নেবেন সে প্রতিষ্ঠানগুলি নাম হলোঃ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । এই দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে আপনি যদি প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার করেন এবং তাহলে আপনি দেশি মুরগির খামার করতে এদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পাবেন। এটা আপনার খামারের জন্য অনেক ভালো একটি পরিকল্পনা।

দেশি মুরগি ঔষুধের তালিকা | কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

দেশি মুরগি সাধারণত সহজে অসুস্থ হয় না আর যদি অসুস্থ দেখা দেয় তার জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রথম দিনঃ  মুরগিকে লাইসোভিট, স্যালাইন, ইলেকট্রোলাইট, জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ দিনঃ মাল্টিভিটামিন জাতীয় ঔষধ দিতে হবে। 

তবে মুরগির অসুস্থ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। পঞ্চম দিনঃ কৃমি নাশক ওষুধ দিতে হবে। এভাবে আপনি আপনার খামারের মুরগির অসুস্থ দেখা দিলে পরিচর্যা করতে পারবেন। যদি বেশি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই পশু পশুপাখির ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

দেশি মুরগির প্রাকৃতিক ঔষুধঃ আমরা সবাই চেষ্টা করি যাতে সাধ্যের মধ্যে খরচ করে মুরগির সেবা নেয়া যায়। তাই আপনাদের জন্য দেশি মুরগির প্রাকৃতিক ঔষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদি মুরগি অসুস্থ হয় সে ক্ষেত্রে মুরগির অসুখের প্রতিকার হিসাবে করণীয়।

৫ থেকে ১০ ফোঁটা মধু, দুই থেকে তিন ফোঁটা কেরোসিন, এছাড়াও আমাদের খাদ্যের তালিকায় থাকা আদা সেটি মুরগির ক্ষেত্রে ২৫ গ্রাম আদা, ২৫ গ্রাম কাঁচা হলুদ, ২৫ গ্রাম রসুন ইত্যাদি ভালোভাবে মিশে মুরগিকে খাওয়াতে হবে। এছাড়া মুরগি যদি আমাশয় জাতীয় সমস্যা দেখা যায় সে ক্ষেত্রে আম পাতা জাম পাতা, পেয়ারা পাতা, বেটে খাবার পানির সাথে খাওয়াতে হবে।

সর্বশেষ কথাঃ কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪

বন্ধুরা, আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা দেশি মুরগি পালন করতে চাই। আজকের পোস্টটি পড়লে আপনারাও অনেক উপকৃত হবেন এবং জানতে পারবেন কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪। আজকের পোস্টে আমরা কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪ উপরে আলোচনা করেছি।

দেশি মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪, দেশি মুরগির খামারে লাভ হওয়ার কারণ, কম খরচে দেশি মুরগীর খামার, দেশি মুরগি পালনে করণীয়, দেশি মুরগি পালন প্রশিক্ষণ, দেশি মুরগির ঔষুধের তালিকা.এ সকল প্রশ্নের উত্তর উপরে জানিয়েছি।

আজকের পোস্টে যারা পড়েছেন তারা অবশ্যই কোন মুরগি পালনে লাভ বেশি ২০২৪ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আজকের পোস্টটি পড়ে আপনারা যদি প্রকৃত হয়ে থাকেন। তাহলে আপনাদের উপকার করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

Next Post Previous Post