শসা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা ও অপকারিতা এবং পুষ্টিগুন

শসা আমরা সবাই চিনি। শসা দেখতে বাহিরে সবুজ। এবং শসার ভেতরের অংশ সাদা। শসা পুষ্টিকর জাতীয় খাবার। শসাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। অন্য খাবার খাওয়ার পাশাপাশি অল্প পরিমাণে শসা খেলে খাবার হজম করতে সাহায্য করে। শসা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শসা খাওয়ার যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো তেমনি এর কিছু অপকারিতা হয়েছে। শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা যদি জানতে চান তাহলে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।

প্রিয় বন্ধুরা, আপনি যদি শসা খাওয়ার উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্য। আজকের পোস্টে  শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

শসা খাওয়ার উপকারিতা "উপস্থাপনা"

শসা আমাদের শরীরের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। শসাতে থাকা ভিটামিন বি, থিয়ামিন (বি১), রাইবোফ্লাবিন (বি২), নিয়াসিন (বি৪), প্যানটোথেনিক, বি৫, বি৬, ফোলেট (বি৯), ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, গ্লুকোজ, স্নেহপদার্থ, ফাইবার, প্রোটিন, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, দস্তা, ক্যালোরি, সব থেকে বেশি থাকে জলীয় পদার্থ। শসা খাওয়ার যেমন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারিতা আছে তেমনি অপকারিত রয়েছে তাই শসা খাওয়ার পূর্বে আমাদের শশা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা ও সম্পর্কে জানতে হবে।

শসা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা

শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে | শসা খাওয়ার উপকারিতা 

শসার মধ্যে প্রায় 90 শতাংশ পানি থাকে। তাই গরমে শসা খেলে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এই গরমে শসা খাওয়ার বিকল্প নেই। তাই শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এই গরমে নিয়মিত শসা খেতে পারেন।

ওজন কমাতে | শসা খাওয়ার উপকারিতা

শসার মধ্যে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। কিন্তু শসাতে ফাইবারের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি থাকায় এটি পেট ভরতে সাহায্য করে ফলে ওজন কমাতে সাহায্য করে। যারা ওজন কমাতে চান। তারা নিয়মিত খেতে পারেন।

হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যা নিরাময়ে | শসা খাওয়ার উপকারিতা

শসার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রাকৃতিকভাবে শ্লেষ্মা আটকে থাকা টক্সিন গুলো বের করে। এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। ফলে হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যা নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া নিঃশ্বাসের ব্যায়াম করে ফুসফুস ভালো রাখতে পারি।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে | শসা খাওয়ার উপকারিতা 

শসাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি' ম্যাগনেসিয়াম,সিলিকা,পটাশিয়াম ইত্যাদি আমাদের শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বাতের ব্যথা দূর করতে | শসা খাওয়ার উপকারিতা

শসার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে সিলিকা থাকে। আবার গাজরের পুষ্টিগুন যথেষ্ট বেশি তাই দুই উপাদান। অর্থাৎ শসার গাজরের রস একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে আমাদের শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমে যেতে সাহায্য করে। ফলে বাতের ব্যথার সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং আর্থ্রাইটিস ব্যথা উপশম করে। তাই নিয়মিত শসা খেতে পারেন। স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

ব্যাকটেরিয়া ও টক্সিন দূর করতে  | শসা খাওয়ার উপকারিতা 

শসাতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহের বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এবং শরীরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত শসা খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ফলে শরীর সুস্থ থাকে।

চুলের যত্নে | শসা খাওয়ার উপকারিতা 

শসাতে রয়েছে সিলিকা খনিজ উপাদান। যা আমাদের চুল ও নখের সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এবং চুলকে মজবুত করে। শসাতে সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

পানির পিপাসা মিটাতে | শসা খাওয়ার উপকারিতা 

একটি শসাতে ৯০ শতাংশ পানি থাকে। গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং মুখের রুচি বাড়াতে শসা বেশ উপকারী। পানির পিপাসা মিটাতে শসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পানি পিপাসা মেটাতে শসা খেতে পারি।

চোখের ছানির প্রদাহ প্রতিরোধ | শসা খাওয়ার  উপকারিতা 

রূপচর্চার ও ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখুন। এতে করে চোখের জমে থাকা ময়লা পরিশোধিত হবে। এছাড়া চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে ও চোখের ছানির প্রদাহ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

ক্যানসার প্রতিরোধে  | শসা খাওয়ার উপকারিতা
শসাতে থাকা সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল আয়ুর্বেদিক উপাদান। মূত্রনালী ও স্তনের বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে | শসা খাওয়ার উপকারিতা 
যাদের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মাড়ির সমস্যায় ভুগছেন। একটি শসা গোল করে কাটা এক স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে রেখে কিছুক্ষণ রেখে দিন। শসার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে। আপনার মুখের দুর্গন্ধ দূর করে নিঃশাষে সজীবতা আনতে সাহায্য করে।

মাথাব্যথা দূর করতে | শসা খাওয়ার উপকারিতা 
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মধ্যে অনেকের মাথা ব্যথা করে। শরীর ম্যাজম্যাজ করে। শসাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার রয়েছে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে শসা কেটে কয়েক স্লাইস খেয়ে নিতে হবে। তাহলে ঘুম থেকে ওঠার পর সকালে মাথা ব্যাথা থাকবে না। তখন আপনি ভালো অনুভব করবেন।

ত্বকের যত্নে | শসা খাওয়ার উপকারিতা 

আমরা যখন বাইরে যাই তখন সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে আমাদের ত্বক পুড়ে যায়। শসা এই পোড়া দাগ সহজেই দূর করে থাকে। ভালো উপকার পেতে শসা পেস্ট করে  রস মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। অথবা শসার রস দিয়ে আইস কিউব বানিয়ে ফ্রিজে রাখুন। ত্বকের যত্নের নিয়মিত শসার আইস কিউব মুখে ভালোভাবে লাগান। এতে আপনার ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করে অনেক লাবণ্যময়, উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক করে তুলবে। আরো ভালো উপকার পেতে শসার রস ত্বকে লাগান কারণ শসার রস ত্বকে টোনারের কাজ করে। এই রসের সঙ্গে গোলাপজল, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তবে এটি তেলতেলে ভাব দূর করে ত্বক টানটান করে ।

প্রতি ১০০ গ্রাম শসাতে পুষ্টিগুণ ও উপাদান রয়েছে 

উপাদান            পরিমাণ
খাদ্যশক্তি           ১৫ কিলোক্যালরি
আমিষ               ০.৬৫ গ্রাম
শর্করা                ৩.৬৩ গ্রাম
ফাইবার              ০.৫ গ্রাম
চর্বি                     ০.১১ গ্রাম
ভিটামিন এ         ১৫০ আইইউ
ভিটামিন সি        ২.৮ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম          ১৪৭ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম        ১৬ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম           0২ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম     ১৩ মিলিগ্রাম
ফসফরাস           ২৪ মিলিগ্রাম
লৌহ                   ০.২৮ মিলিগ্রাম
জিংক                 ০.২০ মিলিগ্রাম

শসা খাওয়ার অপকারিতা

  • 100 % শসার মধ্যে প্রায় 90 % পানি থাকে তাই শসা খাওয়ার পর পানি খেতে নেই। কারণ এর ফলে আমাদের শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ন। তাছাড়া শসা খাওয়ার পর পানি খেলে ঠান্ডা,সর্দি,কাশি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • শসা ঠান্ডা জাতীয় সবজি। শীতের মৌসুমে যাদের হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট আছে। তারা এই সবজি  খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কারন এই শীতে সাইনোসাইটিস রোগে আক্রান্ত মানুষের সমস্যা আর বেশি বেড়ে যেতে পারে।
  • বিশেষজ্ঞরা বলেছেন অতিরিক্ত শসা খেলে বদহজম সমস্যাসহ পেট ফাঁপা,পেট ব্যথা,বমি বমি ভাব এ সমস্যা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরের পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ কথাঃ শসা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা ও অপকারিতা এবং পুষ্টিগুন 

বন্ধুরা, আজকের পোস্টে আমরা জানানোর চেষ্টা করেছি শসা খাওয়ার উপকারিতা, অপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। শসা খাওয়ার যেমন উপকারিতা আছে তেমন অপকারিতা আছে। তাই শসা খাওয়ার আগে আমাদের শসা খাওয়ার উপকারিতা, অপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্ট পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম অনেক পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।
Next Post Previous Post