তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - প্রিয় বন্ধুরা, আজকের পোস্টে তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করবো। তিসির বীজ আমরা সবাই চিনি। তিসির বীজের উৎপত্তিস্থল ইজিপ্টের মিশর শহরে। এটি সারা বিশ্বে চাষাবাদ হয়ে থাকে। ইউরোপ মহাদেশে থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়ে থাকে। এটি ডায়েট কন্ট্রোলের বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। তিসিবীজ আমাদের ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। তিসির বীজ রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আসুন জেনে নেয়া যাক, তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।

বন্ধুরা, আপনারা তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন ? আজকে ভোরের আলো আইটির পক্ষ থেকে তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, তিসির বীজ খাওয়ার নিয়ম,  তিসির  বীজ খাওয়ার সতর্কতা, পুষ্টিগুণ উপাদান সম্পর্কে জানাবো।

তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 'উপস্থাপনা'

তিসির বীজ ফাংশনাল ফুড ৷ কারণ এর পুষ্টিগুণের কোনও তুলনা হয় না। দেখতে খয়েরি আর খেতে মুচমুচে এই বীজ পাওয়া যায় গাছ থেকে। এতে আছে লিগন্যানস, ফাইবার, প্রোটিন এবং আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড বা ওমেগা থ্রির মতো পলিআন স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। কিন্তু কেন এটাকে সুপারফুড বলা হয়? কারণ এতে অন্যান্য খাবারের চেয়ে ৮০০ গুণ বেশি লিগন্যানস থাকে। 

এই বীজ থেকে সর্বাধিক উপকার পেতে হলে ফ্ল্যাক্সসিড তেল ব্যবহার করুন। এই বীজ ভিজিয়ে রেখে খেলে বা গুঁড়ো করে খেলে এটি শরীরে তাড়াতাড়ি মিশে যায়। সকালে ব্রেকফাস্টে সিরিয়ালের সঙ্গে বা দই দিয়ে খেলেও ভালো হয়। প্রতিদিন একটু করে তিসির বীজ খেলে কতটা উপকার পাওয়া যায়, বিস্তারিত জানতে পোস্টটি সম্পন্ন করুন।

তিসির বীজ খাওয়ার ১১ টি উপকারিতা

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির রয়েছে ফাইটোস্টেরল উপাদান যা আমাদের শরীরের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে ভালো কোলেস্টেরল তৈরি করতে সাহায্য করে। ফলে কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি এসিড যা আমাদের শরীরে কার্ডিওভাসকুলার রোগ হতে সাহায্য করে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

নিয়মিত তিসির খেলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। তিসির বীজে শর্করা ও ফাইবার থাকে। যা রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আমাদের দেহের অত্যাধিক সুগার শোষণ করে। ফলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত তিসির খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজ এর রয়েছে ভিটামিন বি6 ফাইবার যা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত তিসির খেলে আমাদের শরীরে হজম শক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা আমাদের শরীরে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও খিদে পাবার প্রবণতা কম করে। এছাড়াও ফাইবার দেহের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজে রয়েছে ভিটামিন সি ও মিনারেল যা আমাদের শরীরে খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি অ্যাসিড যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। নিয়মিত তিসির খেলে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

জয়ন্টের ব্যথা দূর | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে। নিয়মিত খেলে হাঁটুর ব্যথা, কোমরের ব্যথা এছাড়া বিভিন্ন জয়ন্টের ব্যথা দূর করে থাকে। তিসির বীজে থাকা আর্থাইটিস ব্যথায় ভীষণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ক্যালোরির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজে রয়েছে ক্যালোরি। যা আমাদের শরীরের ক্যালোরি চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে। ক্যালোরির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শরীরের দুর্বলতা দূর করে শরীরে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। কাজের মনোবল সৃষ্টি করতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজে শর্করার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। তিসির বীজে থাকা অদ্রবণীয় ফাইবারগুলি লীগন্যান যা রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজে লীগন্যান থাকায় এটি কোলন ক্যান্সার, পোস্টেড ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার রোধ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এর অ্যান্টি অ্যাঞ্জিঅজেনিক উপাদান শরীরে টিউমার হতে বাধা প্রদান করে।

স্নায়তন্ত্রের সমস্যায় | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

তিসির বীজ রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্নায়ুতন্ত্রের ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা স্নায়তন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন তারা তিসির বীজ সেবন করতে পারেন বেশ উপকার পাবেন।

ত্বকের যত্নে | তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা 

নিয়মিত তিসির বীজ সেবন করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে। এছাড়া ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে। ব্রণ থেকে রক্ষা করে থাকে।

তিসির বীজ খাওয়ার নিয়ম

তিসির বীজ বাজারে পাওয়া যায়। একটি হলুদ অন্যটি বাদামী রংয়ের দুটোই সমান পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তিসির বীজ বিভিন্ন খাবার সাথে খেতে পারেন। সবচেয়ে ভাল হয় গুঁড়ো করে সালাত বা পানিতে মিশিয়ে খেলে। 

তিসির বীজ  সরাসরি খাওয়ার সময় হজম হতে সময় হয়, তাই এগুলিকে পাউডার হিসাবে খাওয়া ভাল। ময়দা মাখার সময় অল্প পরিমাণে ফ্ল্যাক্স পাউডার মিশিয়ে রুটি তৈরি করতে পারেন। গরম পানিতে এক চা চামচ তিসির গুঁড়া মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। এতে লেবু মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় তিসির বীজ প্রতি ১০০ গ্রাম আর ৩০ টাকা দরে ক্রয় করা হয়। আপনি চাইলে যে কোন ভাল মুদিখানা দোকান থেকে তিসির বীজ ক্রয় করতে পারেন।

তিসির বীজ খাওয়ার সতর্কতাঃ

নিম্ন রক্তচাপ, নির্ণয় রক্তের শর্করার মাত্রা কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, হরমোনজনিত সমস্যা ও রক্তপাতের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা তিসির বীজ না খাওয়া। খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

100 গ্রাম তিসির উপাদান রয়েছে

ক্যালোরি 534 গ্রাম

প্রোটিন 13.8 গ্রাম

কার্বোহাইড্রেট 28.9 গ্রাম

ফাইবার 23.3 গ্রাম

ফ্যাট 42.2 গ্রাম

তিসির বীজ খাওয়ার অপকারিতা

তিসির বীজ খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি অপকারিতা রয়েছে। নিচে আপনাদের সুবিধার্থে তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানানো হলো।
  • অন্ত্রের বাধা অত্যধিক ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসির বীজ খাওয়া এবং অপর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার ফলে হতে পারে। তে বীজ কোটকাঠিন্য সঠিক ভোট দিয়ে নিরাময় করা যেতে পারে, কিন্তু একটি অনুপযুক্ত ভোট মাইড্রিয়া হতে পারে। আপনি যদি খাঁজকাটা হতে পারেন তবে আপনাকে অবশ্যই তিসি বা তিসি খেতে হবে।
  • আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে তিসি অ্যালার্জির উৎস এবং তিসির বীজ খাওয়া বা খাওয়ার পরে যদি আমরা চুলকানি বা আমাদের ত্বকে সামান্য কালো এবং লাল দাগ অনুভব করি তবে তিসির বীজ থেকে অ্যালার্জিযুক্ত লোকদের তিসির বীজ খাওয়া বা খাওয়া উচিত নয়। 
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা আমাদের শরীর, হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তিসির বীজে পাওয়া যায়। যাইহোক, অনেক বেশি ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড খাওয়া আমাদের রক্তের জমাট বা ঘনীভূত করার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে, যা আমাদের রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়-আমাদের জন্য আদর্শ নয়।
  • যেহেতু অত্যধিক ফাইবার আমাদের হজম বা পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে, তাই অত্যধিক ফ্ল্যাক্সসিড খাওয়া আমাদের পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং এমনকি ডায়রিয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • তিসির বীজ হল সায়ানাইড যৌগ বা পদার্থের একটি উৎস, যা আপনার অন্যান্য ওষুধের সাথে একত্রিত হয় এবং আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই আপনি যদি কোনো অসুস্থতার জন্য নিয়মিত ঔষুধ বা ঔষুধ খান তাহলে আপনার এটি মোটেও সেবন করা উচিত নয়।
  • ছোট বাচ্চা এবং গর্ভবতী মহিলাদের একেবারেই তিসির বীজ খাওয়া উচিত নয়। তিসির বীজ পাওয়া অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে, যা গর্ভবতী মা এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে।

সর্বশেষ কথা - তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেলে তিসির বীজ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের নিশ্চয়ই বোঝাতে পেরেছি। তিসির বীজে অনেক পুষ্টিগুণ উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত তিসির বীজ খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত থেকে পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post