OrdinaryITPostAd

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খাবার -২০২৩

আপনি কি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খাবার -২০২৩ গুগলে সার্চ করে আমাদের ওয়েবসাইট এসেছেন। তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের পোস্টে আমরা আপনাদের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খাবার -২০২৩ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

তাহলে আজকের পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে দেরি না করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খাবার -২০২৩ সম্পর্কে জেনে নিন।

বৈচিত্রময় খাবার

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি ঠিক তেমনি বলা যাই, এমন মজদার খাবার কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। কত ধরনের খাবার যে বাংলাদেশী খাদ্য তালিকায় আছে তা কল্পনাই করা যায় না নানা ধরনের রকমের মাছ, শত রকমের ভর্তা, ভাজি, সবজির নানা পদ, কলার মোচা, শুটকি, নানা পদের ডাল, আচার, মাংসের বিভিন্ন পদসহ আরো কত কি। মোগলাই খানাতে আছে কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহারি, খিচুড়ি, বোরহানি, পোলাও কোরমা, রোস্ট, রেজালা, কোপ্তা কাবাব, চিংড়ির মালাইকারি, ডিমের কোরমা। মিষ্টান্নতে রয়েছে পায়েশ, জর্দা,  গোলাপজাম, রসমালাই, রসগোল্লা, দই সহ আরো অনেক কিছু। এছাড়াও আছে চালের রুটি, পরোটা, নান, বাকরখানি, হরেক রকমের কাবাব, হালুয়া এবং বিভিন্ন ধরনের শরবত। বাঙালির কাছে এই খাবারগুলো যেন শুধু স্বাদ নয় এক ভালোবাসা।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ

আমরা বাঙালিরা জন্মলগ্ন থেকে ভোজনরসিক। পৃথিবীতে আমরা মাসে ভাতে বাঙালি নামে পরিচিত। রন্ধনশৈলীতে পটু এবং ভোজনরসিক দের মাছ এবং ভাত প্রধান খাদ্য হলেও অঞ্চল ভেদে রয়েছে খাবারের বিশাল সম্ভার। বাঙালিরা যেমন খেতে ভালোবাসে তেমনি খাওয়াতে ভালোবাসে। , তাই অতিথি আপ্যায়নে বাঙালিরা অন্যতম। বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার পরিবেশন এর মাধ্যমে বাঙালিরা অতিথি আপ্যায়ন করে থাকে। দেশীয় খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণের উৎস রয়েছে বৈচিত্রময় মসলা ও রন্ধন পদ্ধতি। এজন্য বলতে শোনা যায় আমাদের মা-নানি-দাদিদের হাতের খাবার স্বাদ আজও জিভে লেগে থাকে। বাটা মসলায় দেশীয় উপাদানে রান্নায় ছিল তাদের মূল বিশেষত্ব। ইতিহাসে বলে বাঙালিরা রসনা বিলাসে মুঘল, তুর্কি, আফগান ও ইংরেজ খাবার ধীরে ধীরে প্রবেশ করেছে। তবে কিছু খাবার আছে যেগুলো স্বাদে ও মানে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য। এই খাবারের ঐতিহ্য আমাদের মন ও মনন কে প্রভাবিত করে এবং আমাদেরকে এদেশের মাটি ও মানুষের কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়।

বাকরখানি- বরিশাল

বাখরখানির উৎপত্তি স্থান আফগানিস্তান হলেও এ দেশে বাকরখানির রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও রোমাঞ্চকর অতীত। তখনকার বাংলার সুবেদার নবাব মুরশিদ কুলি খাঁ আগা বাঁকের নামে তুর্কিস্তানের এক বালককে দত্তক নেন। আগা বাকের ভালবেসে ছিলেন সুন্দরী নর্তকী খনি বেগমকে। প্রেমের প্রতিদ্বন্দ্বী কোতয়াল জয়নুল খার সাথে দ্বন্দ্বের কারণে নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বাঘের খাঁচায় নিক্ষেপ করেন। শক্তিধর বাঁকের বাঘকে হত্যা করে মুক্ত হয়ে আসেন। এবং এ খবর পেয়ে জয়নুল খাঁ খনি বেগমকে অপহরণ করে। দুর্গম চন্দ্র দ্বীপের (বর্তমান বরিশাল) গহীনে পালিয়ে যান। আগা বাকের প্রেমিকাকে উদ্ধারে চন্দ্রদ্বীপে উপস্থিত হলে জয়নুল খাঁ খনি বেগমকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আমজনতার মধ্যে মরহুম দায়ীতাকে বাঁচিয়ে রাখতে আগা বাঘের এক প্রকারের শুকনো রুটি জাতীয় খাবার প্রস্তুত করলেন এবং নাম দেন বাখরখানি। প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো ঐতিহ্যের ধারক এই বাকরখানির চাহিদা কমেনি বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে।

মেজবানি মাংস-চট্টগ্রাম

কথিত আছে, সারা দেশে এক দিনে যে পরিমাণ গরু জবাই হয় ঠিক সমপরিমাণ হয় চট্টগ্রামে শুধুমাত্র মেজবানের জন্য। মেজবানে মাংসের প্রচলন কখন থেকে, তা নিয়ে কোন তথ্য নেই গবেষকদের কাছে। ইতিহাস গবেষকদের মতে, নবম শতাব্দীতে চট্টগ্রামের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ ছিল। তাদের হাত ধরেই চট্টগ্রামে মেজবানের মাংস জনতা হয়ে ওঠে বলে ধারণা করা হয়। মেজবানের মূল পদ গরুর মাংস হলেও এই মাংস রান্নার রয়েছে বিশেষত্ব। শুধু তাই নয়, রান্নার ডেকচি থেকে শুরু করে চুলা পর্যন্ত আলাদা এই কাজে চট্টগ্রামের বাবুচিরা বেশ দক্ষ। দেশি-বিদেশি ২২ প্রকারের মসলার পাশাপাশি স্থানীয় হাটহাজারী অঞ্চলের বিশেষ ধরনের শুকনো লাল মরিচ ব্যবহারের ফলে মাংসের স্বাদ অতুলনীয় হয়ে ওঠে যেকোনো ভোজনরসিক এর কাছে। মাটির শানকিতে মেজবানের মাংস পরিবেশন করা হলো এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঐতিহ্য লালিত মেজবান চট্টগ্রামের সামাজিক মর্যাদার এক প্রতীক।

কালাই রুটি-রাজশাহী

আমের শহর, রেশমের শহর, কিংবা শিক্ষার নগরী হিসেবে রাজশাহীর যেমন রয়েছে খ্যাতি, ঠিক তেমনি শীতকালে রাজশাহী পরিচিত হয়ে ওঠে কালাই রুটির শহর হিসাবে। কালাই রুটির উৎস চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা চরাঞ্চল। পদ্মার পলি মাটি মাষকালাই চাষের জন্য উপযোগী। সম্ভবত এই কারণে এটি ছিল পদ্মা চরের মানুষের সকালের নাস্তা। যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় লাহরি। গেরস্থ বাড়ির পুরুষরা খুব ভোরে বাড়িতে চুলা জালানোর আগেই বেরিয়ে যেতেন মাঠে কাজ করতে। ওরে ঘরের বধূরা কালাই রুটির লাহারি কাপড়ে মুড়িয়ে পরম যত্নে মাঠে নিয়ে যেতেন। সাধারণত গরম গরম কালাই রুটি খেতে হয় নুন আর বেগুনের সানা দিয়ে। পেয়াজ, মরিচ কুচি, লবণ আর সরিষার তেলের মিশ্রণ কে স্থানীয় ভাষায় নুন বলে. অতি সাম্প্রতিক সংযোজন হলো হাঁসের মাংসের ভুনা দিয়ে কালাই রুটি খাওয়া।

চুইঝাল মাংস-খুলনা

খুলনার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নয়ন জড়ানো সুন্দরবন আর দারুণ সাধের চিংড়ি। বাইরে থেকে কেউ খুলনা শহরে এলে এসবের বাইরে যে জিনিসের খোঁজ সবচেয়ে বেশি করেন তা হলো ঐতিহ্যবাহী খাবার চুইঝাল মাংস। বাংলাদেশের দক্ষিণে পশ্চিম অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং নড়াইল এলাকার মানুষ চুইঝাল ছাড়া মাংস রান্নার কথা ভাবতে পারেনা। চুইঝাল এক ধরনের মসলা। চুই গাছ দেখতে অনেকটা লতানো পান গাছের পাতার মত শিকড়, কান্ড বা লতা কেটে টুকরো টুকরো করে রান্নার ব্যবহার করা হয়। মাংসের স্বাদ ও সুঘ্রাণ বাড়িয়ে দিতে চুইঝাল এর ভূমিকা অতুলনীয়। খুলনা বিভাগে চুইঝাল এত জনপ্রিয় যে একে খুলনার কৃষিপণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

মহিষের দুধের দই-ভোলা

দ্বীপ জেলা ভোলার ব্রান্ড হিসেবে পরিচিতি মহিষের দুধের কাঁচা দই, যা প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে। এখানকার অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম উপাদান এই দই। সামাজিক পরিবার ও ঘরোয়া ভোজে এ দই অবশ্যক। এ ছাড়া খাবার হজমে কাঁচা দুধের দই বাড়তি সহায়তা করায় এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মেঘলা তেতুলিয়া নদীর চরাঞ্চলে লালন পালন করা হয় শত শত মহিষ। যুগ যুগ ধরে বহু পরিবারের প্রধান পেশা মহিষের দুধ ও দই বিক্রি। দুধ দইয়ের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শহরে গড়ে ওঠে শত শত মহিষ বাথান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বাথান থেকে মনে মনে দুধ আসতে শুরু করে শহরের বাজারগুলোতে। সেখান থেকে গোয়ালারা প্রয়োজনমতো দুধ কিনে দই প্রস্তুত করেন। মহিষের দুধের দই সাধারণত মাটির পাত্রে বসানো হয়। সে অবস্থায় উপরে শুধু কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে বাজার করা হয়।

সাতকরার আচার-সিলেট

সাতকরা আর নালি পাতা কি বলিব লজ্জার কথা, সুটকেস ভরিয়া লও হুটকির বস্তা। সাতকরা নিয়ে সিলেটের প্রচলিত একটি শ্লোক। সিলেট নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই মানসপটে ভেসে ওঠে টিলাময় চা বাগান, ঝরনা, হাওড়, পাথরের দেশ জাফলং এবং লেবুর গোত্রীয় ফল সাতকরা। কমলালেবুর মতো ভেতরে রয়েছে সাতটি কড়া, এজন্যই স্থানীয়ভাবে এটি হাতকড়া নামে পরিচিত। ১৮ শতকের শুরুর দিকে এ ফলের চাষ শুরু করেন আসাম অঞ্চলের সৌখিন চাষিরা। সিলেটের সীমান্ত অঞ্চলে জৈন্তাপুর, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে এই ফল জন্মাতে দেখা যায়। গরুর মাংস কিংবা হাওরের টাটকা মাছের সাথে সাতকরার রাসায়ন জন্ম দেয় নতুন এক ধরনের খাদ্যরসনার। এমন সিলেটি মা পাওয়া কঠিন, যার সন্তান বিদেশ থাকে, তার সন্তানের জন্য সাত করার আচার পাঠাননি।

রসমঞ্জরী-গাইবান্ধা

মুখ দিলে এক মিনিট শেষ হয়ে যায়। লাল সে ঘন জমে থাকা দুধের মধ্যে উঁকি দিচ্ছে ছোট গোল গোল নরম ছানার বল। মুখে দিলেই ক্ষীর আর রসের মিশালে জিভে ছড়িয়ে পড়ে অপূর্ব এক স্বাদ। রসময় জাদুকরি এই খাবারটির নাম রসমঞ্জুরী। দেখতে রসমালাই এর মত হলেও প্রস্তুত প্রণালীর কারণেই এর স্বাদ অন্যান্য। রসমঞ্জুরীর আবির্ভাব হয়েছিল ১৯৪৮ সালের জুন মাসে। প্রথমে ভারতের উড়িষ্যার এক কারিগরকে দিয়ে শুরু হয় রসমঞ্জুরী বানানোর কাজ। পরবর্তীতে এক দশকের মধ্যেই রস মঞ্জুরী স্বাদ জেলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপী মানুষকে আকৃষ্ট করে। শুরুতে রসমঞ্জুরি গুলো লম্বা আকারের বানানো হতো। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার আকৃতি। এখন এটি গোল করে বানানো হয়। ইতিমধ্যে গাইবান্ধার রস রসমঞ্জরী জেলা ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 মন্ডা-মুক্তাগাছার

১৮৮২ সাল স্বপ্নে এক নতুন মিষ্টান্ন রেসিপি পান মুক্তাগাছার গোপাল পাল। তিনি নাকি একরাতে স্বপ্নে দেখেন যে শিয়রে দাঁড়িয়ে এক সাধু তাকে মনটা তৈরি করার আদেশ দিচ্ছেন। পরদিন তিনি আদেশ মত চললে শুরু করলেন এবং গোপাল শিখিয়ে দিলেন মনডা তৈরীর কলাকৌশল। দুধ ও চিনি দিয়ে তৈরি হলো মণ্ডা। সাধু আশীর্বাদ করেন যে এই মন্ডার জন্য সে অনেক খ্যাতি অর্জন করবে। নব উদ্ভাবিত পরিবেশন করলেন তৎকালীন জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আশ্চর্য চৌধুরী রাজ দরবারে। মন্ডা খেয়ে জমিদার মশাই তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুইশত বছর কালে কালে এই মন্ডা খেয়ে মুগ্ধ হয়েছেন উস্তাদ আলাউদ্দিন খান, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়, রুশ নেতা জোসেফ স্টালিন। চীনা নেতা মাওসেতং এবং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

কাচ্চিনামা-ঢাকা

তাজাকিস্থান ও উজবেকিস্থানের চাগতাই জাতির মাধ্যমে কাচ্চি বিরানীর প্রচলন শুরু। ধারনা করা হয়, ১৩৯৮ সালে ভারতবর্ষে তুর্কি মুঘল সেনাপতি তৈমুর লং এর সেনাবাহিনীর জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার নিমিত্তে চাল বিভিন্ন মসলা ও মাংস একটি হাড়িতে নিয়ে গনগনে গরম একটা গর্ভে চাপা দিয়ে দমের রান্না করা হতো এই খাবার। আরো শোনা যায় যে, একবার মুঘল সামগ্রী মমতাজ ব্যারাকের গিয়ে সৈন্যদের দুর্বল ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্য দেখে তিনি সৈন্যদের জন্য নিয়োজিত বাবুর্চিকে ডেকে সাল ও মাংস দিয়ে একটি খাবার প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুসারে একটি বিশাল হাড়িতে চাল মাংস ও হরেক রকমের মসলা দিয়ে অল্প আঁচে ও দমে কয়েক ঘন্টা রান্না করে তৈরি করা হলো এই বিশেষ খাবার তথা কাচ্চি বিরিয়ানি। মূলত ১৬১০ সালের দিকে মুঘল সুবেদারদের সাথে রাধুনীদের মাধ্যমে ঢাকা শহরের কাচ্চি বিরিয়ানির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

পাহাড়ি রসনাবিলাস-বান্দরবান

জেলায় পাহাড়ি বাঙ্গালীদের প্রিয় খাবার বাঁশ কোরাল, যাহা মূলত বাঁশের গোড়ার কচি নরম অংশ। বাঁশ কোড়ালকে হালকা সিদ্ধ করে সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। আবার মাছ ও মাংসের সাথে রান্না করলে এর স্বাদ বহুগুণ বাড়ে। বান্দরবানের বহু গুণ প্রচলিত আরেকটি খাবার হল মুন্ডি। চালের গুড়ার দিয়ে তৈরি করা সামান্য টক ঝাল মিশ্রিত খাবারটি মূলত পাহাড়ি মারমাদের একপ্রকার স্থানীয় নুডুলস। পাহাড়ি প্রবাদে আছে ২২ পদ না হলে পাজন হয় না। অনেক পাহাড়ি সবজি আর শুটকি একসাথে রান্না করে পাজন বানানো হয়। ১০ থেকে শুরু করে ৪০ রকমের সবজি দিয়ে পাজন হয়। এছাড়া সুঘ্রাণ ও লোভনীয় স্বাদের কারণে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ব্যাম্বু চিকেন। মুরগির মাংসে পাহাড়ি মসলা মিশিয়ে সবারং পাতার মিশ্রণ লাগিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বাঁশের ভিতরে। এরপর কলাপাতা দিয়ে বাঁশের মুখ বন্ধ করে কয়লার টিমে আঁচে চলে রান্না।

রাজপথের রসনাবিলাস-ঢাকা

প্রাণের সমাগমে মুখরিত এই ঢাকা শহরে রাস্তাঘাটে কিংবা অলিতে গলিতে দেখা মিলে অনেক মুখস্ত খাবারের। ব্যস্ত নগরীর রাজপথে রসনাবিলাস মানে ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি, ঝালমুড়ি, চা, কাবাবের সমারহ। টিএসসির এর রকমারি স্টেট ফুড এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে টিএসসির চা। মালাইচা থেকে শুরু করে তেতুল চা, মরিচ চা, অপরাজিতা ফুলের চা, কি নেই সেখানে। খিলগাঁও, উত্তরা ১৩ নাম্বার লেক, মিরপুর ২ এর লাভ রোড, পরিবাগ ওভারব্রিজ, মোহাম্মদপুরের রিংরোড, টাউন হল, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর হল স্টিট ফুডের রাজ্য। এই এলাকাগুলোতে পিৎজা, ফালুদা, মমো, বার্গার, জিলাপি, চিকেন চপ, বট, পরোটা এসব স্টিট ফুডের সরবরাহ। বর্তমানে ঢাকার স্ট্রীট ফুড এর জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে আন্তর্জাতিক ফুড রিভিউ আর মার্ক ওয়েলেস খলিদ, আল আমেরি, মিরা আফসার আলী সহ আরো অনেকে এসেছেন এই রসনাবিলাসের স্বাদ নিতে।

সর্বশেষ কথা

বন্ধুরা, আজকের পোস্টটি নিশ্চয়ই মনোযোগ সহকারে পড়েছেন। আশা করি উপকৃত হয়েছেন। জানতে পেরেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খাবার -২০২৩ বিস্তারিত সকল তথ্য সম্পর্কে। আপনাদের সঠিক তথ্য জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্ট পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url