জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ - জ্বিলকদ ছুটির তালিকা ২০২৪

আমরা প্রায় সবাই জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ অনুসন্ধান করি। কারণ অন্যান্য মাসের মতো এ মাসেও রোজা ও নফল ইবাদত জানা প্রত্যেকের কর্তব্য। এছাড়াও অনেকেই জ্বিলকদ ছুটির তালিকা ২০২৪ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫

তাহলে আসুন জেনে নেই জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ ও জ্বিলকদ ছুটির তালিকা ২০২৪ সম্পর্কে। আজকের নিবন্ধটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পেজের সূচিপত্রঃ জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ - জ্বিলকদ ছুটির তালিকা ২০২৪

জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫

প্রতি বছর মুসলিম বিশ্বে সব মাসই চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে। একইভাবে জ্বিলকদ মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। এটি আরবি ১৪৪৫ হিজরিতে জ্বিলকদ মাসের ১ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। ইংরেজি ২০২৪ সালের ১০শে মে, বাংলা ১৪৩১ বছরের বৈশাখ মাসের ২৭ তারিখে। "রোজ শুক্রবার "চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল"। আপনার সুবিধার জন্য নিচে জ্বিলকদ মাসের  ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ দেওয়া হল।

জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫

বন্ধুরা, আপনারা অবশ্যই আমাদের আজকের নিবন্ধে জ্বিলকদ মাসের  ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ দেখেছেন এবং জ্বিলকদ মাসে আজ কত তারিখ ২০২৪ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন।

জ্বিলকদ মাসের ছুটির তালিকা ২০২৪

জ্বিলকদ ছুটির তালিকা ২০২৪ ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ২০২৪ সালের জ্বিলকদ মাসের মে থেকে জুনের মধ্যে পড়ে। জ্বিলকদ মাস আরবি বছরের একাদশ মাস। এ মাসেরও অনেক ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মাস বলে মনে করতেন। 

এ মাসের ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে। এ মাসের কোনো কোনো রাতে নফল ইবাদত এবং কোনো কোনো রোজা সুন্নত। তবে এ মাসে আরবি ছুটির তারিখ নেই।

জ্বিলকদ মাসের আজ কত তারিখ ২০২৪

আরবীতে এক বছর ১২ মাস। আরবি একটি বছর ৩৬৫ দিন। প্রতি বছর আল্লাহর প্রিয় বান্দা এই জ্বিলকদ মাসের জন্য অপেক্ষা করেন। কারণ জ্বিলকদ মাসে রয়েছে বিশেষ সওয়াব। অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসের ইবাদত মহান আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে এই জ্বিলকদ মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আপনারা যারা আমাদের আজকের নিবন্ধটি পড়ছেন। আর আজকে জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫  জ্বিলকদ  মাসের তারিখ জানতে চাই। তাদের সুবিধার্থে জ্বিলকদ মাসের তারিখগুলো জানানো হলো।

আরবি ভাষার সব মাসই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। আরবি ক্যালেন্ডার শুরু হবে ১৪৪৫ হিজরী জ্বিলকদ মাসের ১ তারিখ। ২০২৪ সালের ইংরেজি ১০ মে, বাংলা ১৪৩১ বৈশাখ মাসের ২৭ তারিখ। রোজ শুক্রবার "মুসলিম রীতি অনুযায়ী চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে"। এছাড়া এ মাসে সিয়াম সাধনার বিশেষ ৯টি বরকত রয়েছে।

চাঁদ দেখলে মাসায়ালা

চাঁদ দেখলে মাসায়ালা সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • আকাশে ঘন মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না গেলে, কোনো ধর্মপ্রাণ মুসলমান নিজের চাঁদ দেখেছে বলে সাক্ষ্য দিলে রোজা রাখা ওয়াজিব।
  • আকাশে মেঘ না থাকলে অন্তত পাঁচজন মুসলমান চাঁদ দেখার সাক্ষী হলে রোজা রাখবেন।
  • রোজা ভঙ্গ ও ঈদ উদযাপনের উপরোক্ত শর্তে কমপক্ষে দুজন মুমিন পুরুষকে সাক্ষ্য দিতে হবে।
  • যদি দুইজন মুমিন পুরুষের পরিবর্তে একজন মুমিন পুরুষ এবং দুইজন মুমিন নারী থাকে, তাহলে তাও হয়ে যাবে। কিন্তু একজন পুরুষ সাক্ষী না থাকলে, যত নারী সাক্ষীই থাকুক না কেন, তা চলবে না।

রোজা রাখার নিষিদ্ধ দিন সমূহ

রোজার নিষিদ্ধ দিন সম্পর্কে আপনার কি কোন ধারণা আছে? অনেক সময় রোজা কোনো তারিখ থাকে না, কিন্তু অনেক সময় আমরা মানতের নামে রোজা রাখি। কিন্তু আরবি ১২মাসে এমন কিছু দিন আছে যেগুলোতে কোনো প্রকার রোজা রাখা যাবে না। যে দিনগুলোতে রোজা রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র পাঁচ দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ।

সেগুলো হলো দুই ঈদের দুই দিন এবং ঈদুল আযহার পরের তিন দিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ রোজা রাখা নিষিদ্ধ। যেহেতু রোযার নিয়ত করা জরুরী ফরয তাই তা করতে হবে অন্যথায় রোযা শুদ্ধ হবে না। এমতাবস্থায় রমজান মাসে রোজা রাখার শেষ সময় হলো রোজার দিন দুপুর পর্যন্ত।

জ্বিলকদ মাসের নফল রোজা

জ্বিলকদ মাসের নফল রোজা ১৪৪৫ সালের বর্ষপঞ্জি দেখলে বোঝা যায়। জ্বিলকদ মাসের রোজা সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জ্বিলকদ মাসের যে কোনো দিনে রোজা রাখবে, আল্লাহতায়ালা তাকে প্রতি ঘণ্টায় একটি কবুল হজের সওয়াব দান করবেন।

হাদিসে উল্লেখ আছে যে, ওই মাসের রোজাদারের প্রতিটি নিঃশ্বাসে একজন করে গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাওয়া যায়। উপরোক্ত হাদিসের একটিতে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে যে ব্যক্তি এই মাসের সোমবার রোজা রাখবে সে হাজার বছরের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব পাবে।

জ্বিলকদ মাসের ইবাদত ২০২৪

জ্বিলকদ মাসের ইবাদত ও ফজিলত সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা জ্বিলকদকে একটি সম্মানিত মাস মনে করবে।" কারণ এ মাসটি সম্মানিত। অর্থাৎ মাসগুলোর মধ্যে এ মাস পবিত্র মাস। বাকি হাদিসে বলা হয়েছে যে, তোমরা এ মাসকে সওয়াব মনে করবে। কেননা এ মাসের একটি দিনের সওয়াব হাজার বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

যে ব্যক্তি এই মাসের বৃহস্পতিবার একশত রাকাত নফল নামাজ পড়বে এবং প্রতি রাকাতে সূরা আল ইখলাসের সাথে ১০ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা তার কাজের জন্য অফুরন্ত সওয়াব দান করবেন। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, এ মাসের শুক্রবারে যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত নিয়মানুযায়ী চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, মহান আল্লাহ তাকে একটি হজ ও ওমরাহ হজের সওয়াব দান করবেন।

নামায পড়ার নিয়মঃ এই নামায দুই রাকাত নিয়তে পড়তে হবে। এর প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে ১০ বার করে সূরা আল-ইখলাস পড়বে।

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এ মাসের প্রথম রাতে চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে নিম্নোক্ত নিয়তে, আল্লাহতায়ালা তার জন্য বেহেশতে লাল রুবি পাথরের ৪ হাজার প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। তার প্রতিটি প্রাসাদে মণি ও মুক্তার তৈরি একটি করে সিংহাসন থাকবে এবং তাতে একজন হুরা উপবিষ্ট থাকবেন। সেই হুরদের কপাল সূর্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হবে।

নামাজের নিয়ম: এই নামাজ দুই রাকাতে পড়তে হবে এবং প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাস ২৩ বার পড়তে হবে।

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ মাসে যে ব্যক্তি প্রতি রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে এবং প্রতি রাকাতে সূরা ইখলাসের সাথে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, মহান আল্লাহ প্রতি রাকাতে একজন শহীদের সওয়াব দান করবেন। 

রোজার কাফফারা সমূহ

রোজার কাফফারের সঠিক নিয়ম ও গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। যাদের উপর রোযার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়ে যায়, তারা রোযার পরিবর্তে একটি রোযা পালন করবে এবং কাফফারা হিসেবে একজন সুস্থ, নিখুঁত দাস মুক্ত করবে।

তা করতে না পারলে ৬০ জন দরিদ্র মানুষকে ভরপুর খাবার দেওয়া হবে। যদি সে তা করতে না পারে, তাহলে সে একজন মুসলমানকে ৬০ দিন ধরে যেভাবে খায় ঠিক সেভাবে খেতে দেবে। এতে সক্ষম না হলে তাকে একটানা দুই মাস রোজা রাখতে হবে। যদি কোনো সুযোগে ৬০ দিনের মধ্যে একটি রোজাও চলে যায়, তাহলে প্রথম থেকে আবার ৬০ দিন পালন করতে হবে।

আগের দিনের রোজা কোনো কাজে আসবে না। তবে এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কাফফারা দেওয়ার সময় যেন বছরের হারামের ৯০ দিন পরে না হয়। আর নারীর ক্ষেত্রে যদি কাফফারা আদায়ের সময় ঋতুস্রাব হয়, তাহলে হজের সময় রোজা না রেখে পবিত্র হওয়ার সাথে সাথে রোজা শুরু করতে হবে।

ফিতরা দান প্রসঙ্গে মাসায়ালা

ফিতরা দানের ক্ষেত্রে মাসয়ালাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা আমাদের সবার জানা উচিত। কারণ যাকাত দিতে না পারলেও আমরা প্রত্যেকের ফিতরা দেই। ঈদের নামাযের আগে ফিতরা আদায় করা বাঞ্ছনীয়। রমজানের মধ্যে পরিশোধ করলেও তা পরিশোধ করা হবে। তারপর ফেতরা হিসেবে সংগ্রহ করা হবে। ফিও দানের অংশ। 

ফিতরাহ ফরজ সদকা। কিন্তু যাকাতের ফিতরার টাকা মসজিদ, মাদ্রাসা, বাড়ি, রাস্তা ইত্যাদি নির্মাণে ব্যবহার করা যাবে না। গরীব ছাত্রদের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার। প্রথমত, গরীবকে দান করা একটি সওয়াব। দ্বিতীয় মাদ্রাসা শিক্ষাকে টিকিয়ে রেখে দ্বীনকে নিরাপদ করা সওয়াব।

ফেতরা গ্রহণ যোগ্য লোকগণ

ফিতরা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা ফিতরা পাওয়ার যোগ্য:

  • গরীব ভাই বোনেরা।
  • দরিদ্র প্রতিবেশী।
  • গরিব কাছে-দূরের।
  • গরীব তালেবে ইলম বা আলেম উলামা।
  • একজনের চেয়ে একজন ভালো। তবে এটি একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া যেতে পারে।
  • একজনকে অনেক ফিতরা দেওয়া যায়।
  • কোন প্রতিষ্ঠান বা মসজিদ মাদ্রাসার রাস্তা, পুল ইত্যাদি দেওয়া জায়েয নেই।

সদকায়ে ফিতরার বিবরণ

সদকায়ে ফিতরার বিস্তারিত নিচে উল্লেখ করা হলো:
  • ঈদুল ফিতরের দিন ছাহাবে নেসাব অর্থাৎ কিছু ধনী ব্যক্তির সাদাকাহ-ই-ফিতর দেওয়া ওয়াজিব।
  • রমজানের রোজায় ভুল হলে ফেতরাহ দ্বারা তা মাফ করা যায়।

ফিতরা দিবে কারা

ফিতরা কে দিবেন বা কি ধরনের লোক ফিতরা দিবেন সে সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলঃ
  • বড়ত্বের ফিতরা নিজের দিক থেকে দেওয়া হবে।
  • বাড়ির কর্তাকে তার নিজের দরিদ্র নাবালক সন্তানদের পক্ষে তা সংগ্রহ করতে হয়।
  • ঈদের দিন ফজরের নামাযের আগে সন্তান জন্ম নিলে তার পক্ষ থেকেও ফিতরা দিতে হবে। অবশ্য ওই সময়ে কেউ মারা গেলে তার ফিতরা দিতে হবে না। ঈদের দিন সূর্যাস্তের পর কারো জন্ম হলে তাকে ফিতরা দিতে হবে না। আর এ সময় কেউ মারা গেলে তার জন্য ফিতরা লাগবে। যদি সন্তান বা স্ত্রী সাহেবের বাসস্থান হয়, তাহলে তারা নিজেরাই ফিতরা আদায় করবে।

সর্বশেষ কথাঃ জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ - জ্বিলকদ ছুটির তালিকা ২০২৪

আজকের নিবন্ধে আপনার সাথে আলোচনার মূল বিষয় ছিল জ্বিলকদ মাসের ক্যালেন্ডার ১৪৪৫ ও জ্বিলকদ ছুটির তালিকা ২০২৪ ফিতরা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং নফল রোজার সকল নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আজকের নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আজকের নিবন্ধটি আপনার ভালো লেগেছে।

আপনি যদি কোন বিষয় পছন্দ করেন এবং নিবন্ধটি পড়ে আপনি কতটা উপকৃত হয়েছেন তা আপনার কাছের বন্ধুদের সাথে আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করুন। প্রতিদিন এরকম গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষামূলক আর্টিকেল পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট Vorer Alo IT  ভিজিট করুন। এতদিন আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post