রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম

রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম - মুসলিম বিশ্বে ইসলাম ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুটির মধ্যে একটি হলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রতিবছর রমজান মাসের রোজার শেষে সারা বিশ্বে পালিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। মহান আল্লাহতালা তার বান্দাদের জন্য দীর্ঘ একমাস রোজার পরে দিয়েছেন এই পবিত্র ঈদুল ফিতর যাকে বলা হয় রোজার ঈদ। বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। আমাদের মধ্যে অনেকে আসে যারা রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেনা। আজকের পোস্টটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আজকের পোস্টে আমি আপনাদের জন্য রোজার ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ত, রোজার ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম, রোজার ঈদের নামাজের তাকবীর বিস্তারিত সকল তথ্য নিয়ে সাজিয়েছি। তাহলে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক, আমাদের আজকের পোস্টটি রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে।

রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম

আপনি কি রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আমাদের আজকের পোস্টটি শেষ পর্যন্ত আমাদের সহকারে পড়ুন। আজকের পোস্টটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে।

ঈদের নামাজ কি ওয়াজিব - ঈদের নামাজ কি ফরজ - ঈদের নামাজ কয় রাকাত

হানাফী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ওয়াজিব। মালিকি ও সাইফী মানুসারে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এবং হাম্বলী মাযাব অনুসারে ঈদের নামাজ ফরজ। কোন কোন ইসলামী পন্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজ আইন এবং কোন কোন ইসলামী পন্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে কেফায়া। কিন্তু কারো কারো মতে ঈদের দুই রাকাত নামাজ নফল।

ঈদের নামাজ দুই রাকাত। ঈদের নামাজে কোন ইকামত ও আযান নেই।

রোজার ঈদে নামাজ পড়ার নিয়ত - ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ত - ঈদের নামাজের নিয়ত আরবিতে

 نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াঝিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি 'আল্লাহু আকবার।

অর্থঃ আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি- 'আল্লাহু আকবার'।

রোজার ঈদে নামাজ পড়ার নিয়ম - ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম

সকাল বেলা অন্য দিনের তুলনায় ঘুম থেকে উঠা। এরপর গোসল করে সমস্ত শরীর পবিত্র করা। গোসল করা শেষ হয়ে গেলে এরপরে অজু করে নিতে হবে। তারপর কিছু মিষ্টি মুখ করে ঈদগাহ ময়দানের দিকে যাওয়া। এরপর ঈদের নামাজে তাকবীর পড়তে পড়তে ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত হওয়া। তারপরে ঈমামের সঙ্গে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উভয় হাত বাঁধা।

তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়া- ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’

কিছুক্ষণ পরে অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া। এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া। এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হবে। তারপরে আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া। সুরা ফাতেহা পড়া, সুরা মিলানো,এরপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত নামাজ শেষ করা।

এরপর দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়া, সুরা মিলানো, সুরা মিলানোর পর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া। এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হয়। এরপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া, সেজদা আদায় করা, বৈঠকে বসা, তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সমাপ্তি করা।

নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়া

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد

উচ্চারণঃ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

নামাজের পরার শেষে ইমাম সাহেবের দুইটি খুতবা পড়বে। ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবে আর সেই খুতবা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে।

অতিরিক্ত তাকবির

ঈদের নামাজ অতিরিক্ত তারবির বলতে, অতিরিক্ত তাকবিরের জন্য অন্যান্য মাজহাবসহ অনেকেই প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমাসহ ৭ তাকবির আর দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তাকবিরে দিয়ে থাকেন। যদি কেউ অতিরিক্ত ৬ তাকবির দেয় কিংবা অতিরিক্ত এগারো তাকবির দেয় তাতে নামাজের অসুবিধা হবে না বরং নামাজ হয়ে যাবে।

আশা করি, রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম ও ঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এখন আমরা জানবো ঈদের নামাজে তাকবির পড়া সম্পর্কে।

ঈদের নামাজের তাকবির পড়া

তাকবির হলো

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد

উচ্চারণঃ ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

ঈদের নামাজ কোথায় পড়বেন

প্রত্যেকটা মুসলিম বান্দাদের ঈদের নামাজ সাধারণত ছাদবিহীন খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ পড়া সুন্নাত। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। তবে যদি ঈদের নামাজ পড়ার জন্য খোলা স্থান না থাকে তবে মসজিদ কিংবা ছাউনি বিশিষ্ট স্থানেও নামাজ পড়া যাবে। আবার প্রকৃতিক দুর্যোগেও বৃষ্টি প্রতিরোধক ছাউনিযুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ পড়া যাবে।

আশাকরি বন্ধুরা, তাহলে আপনারা জানতে পেরেছেন ঈদের নামাজ কোথায় পড়বেন। এখন আমরা জানবো ঈদের নামাজের শর্ত সম্পর্কে৳

ঈদের নামাজের শর্ত?

ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের ঈদের নামাজের শর্ত সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে। ঈদের নামাজের জন্য শর্ত হলো জামাতে নামাজ আদায় করা। উন্মুক্ত স্থান, মসজিদ, ছাউনিযুক্ত জায়গা বা বাসা-বাড়ি যেখানেই হোক অবশ্যই জামাতের সঙ্গে প্রত্যেকটি মুসলিম বান্দাদের ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। শুধু আজান ও ইকামত ছাড়া জুমার নামাজের জন্য যেসব শর্ত প্রয়োজন ঈদের নামাজের জন্যও সেই সকল শর্ত প্রয়োজন রয়েছে।

এখানে ইসলামিক পরিভাষার গবেষক বলেছেন, জামাত ছাড়া ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না। আর তাই বাসা-বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করতে হলেও অবশ্যই আপনাকে জামাতের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। ঈদের নামাজের আযান ও ইকামত নেই। তবে জুমার নামাজের মতোই উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়।

ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর দুইটি খুতবা দিতে হবে। যেমনটি জুমার নামাজের আগে দুইটি খুতবা দেওয়া হয়।

আশা করি, ঈদের নামাজের শর্ত সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এখন আমরা জানবো জুমার সাথে ঈদের নামাজের পার্থক্য সম্পর্কে।

জুমার সঙ্গে ঈদের নামাজের পার্থক্য

অনেক সময় অনেকে প্রশ্ন করে বসেন জমার সঙ্গে ঈদের নামাজের পার্থক্য কি? তাদের জন্য আমি আজকে আপনাদের জানাবো জুমার সঙ্গে ঈদের নামাজের পার্থক্য সম্পর্কে।

ঈদের নামাজের আজান ইকামত নেই। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ৬ তাকবির দিতে হবে। হাদিসে ৬ তাকবিরসহ আরও বেশি তাকবিরের কথাও উল্লেখ আছে। ঈদের নামাজের পরে দুইটি খুতবা দিতে হবে। আর জুমার নামাজের ক্ষেত্রে আগে দুইটি খুতবা দিতে হয়।

আশা করি, জুমার সঙ্গে ঈদের নামাজের পার্থক্য সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এখন আমরা জানবো ঈদের নামাজের দোয়া।

ঈদের নামাজের দোয়া

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد

উচ্চারণঃ ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

নামাজের পর ইমাম সাহেবের দুইটি খুতবা দেওয়া। ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবে আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবে।

আশা করি, ঈদের নামাজের দোয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এখন আমরা জানবো ঈদের জামাতের শর্ত।

ঈদের জামাতের শর্ত

মুসলিম বিশ্বের একটি আনন্দের দিন হল ঈদ। একজন মুসলিম বান্দা হিসেবে আমাদের ঈদের জামাতের শর্ত সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। ঈদের নামাজের জন্য জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার শর্ত হলো ইমাম ছাড়া ন্যূনতম তিনজন মুসল্লি হতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে বাসা-বাড়িতে পরিবার নিয়ে ঈদের নামাজের জামাত আদায় করা যাবে। ঈদের নামাজের নিয়ম। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতকে যথাযথ নিয়মে ঈদের নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

সর্বশেষ কথাঃ রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম 

প্রিয় পাঠক, যাদের মনে রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম, ঈদের নামাজ কি ওয়াজিব, ঈদের নামাজ কি ফরজ, ঈদের নামাজ কয় রাকাত, রোজার ঈদে নামাজ পড়ার নিয়ত, রোজার ঈদে নামাজ পড়ার নিয়ম, ঈদের নামাজের তাকবীর পড়া, ঈদের নামাজ কোথায় পড়বেন, ঈদের নামাজের শর্ত? ঈদের নামাজের দোয়া, জুমার সঙ্গে ঈদের নামাজের পার্থক্য, ঈদের জামাতের শর্ত এ সকল প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তিতে ছিলেন। তারা আমাদের আজকের এই পোস্ট রোজার ঈদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে সকল তথ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মতকে নিয়ে যথাযথ নিয়মে ঈদের নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। ঈদের নামাজ আদায় নিরাপত্তা বজায় রেখে ও সুস্থ থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন

আশা করি, আজকের পোস্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। আজকের এই পোস্টটি যদি আপনার কোন উপকারে আসে তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে সকল তথ্য সম্পর্কে জানাবেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্ট পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

Next Post Previous Post