তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম

তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম - তেঁতুল আমরা সকলেই চিনি। তেঁতুল খেতে পছন্দ করে না এমন কোন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তেঁতুল গাছের পাতা ছোট ছোট এবং তেঁতুল দেখতে সবুজ ও ভিতরে বিচি রয়েছে। তেঁতুল ঔষধি গুনসম্পন্ন একটি ফল। কাঁচা কিংবা পাঁকা তেঁতুল দুটির আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারিতা ও অপকারিত রয়েছে। তেঁতুলে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ক্ষত সারাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও রক্তস্বল্পতা সমস্যা দূর করে থাকে। তেঁতুল খাওয়া যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি অপকারিতাও রয়েছে তাই তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক, তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম

তেঁতুলের নাম শুনলে জিভে পানি আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। তেঁতুল একটি মুখোরৌচক খাবার। তাই কম বেশি সকলে আমরা তেঁতুল খেয়ে থাকি। তেঁতুল খাওয়া যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারিতা রয়েছে তেমনি অপকারিতাও রয়েছে। তাই আমাদের তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে হবে। নিচে আপনাদের জন্য তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা, তেঁতুল খাওয়ার অপকারিতা ও তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম

আমরা এখন জেনে নেব তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম কি সে সম্পর্কে। তেঁতুল বিভিন্ন ঔষধগুন সম্পন্ন হওয়ায় তেঁতুলকে নামে অবিহত করেন। কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মেনে জিব/প্রাণীর নাম নির্ধারণ করাকে বৈজ্ঞানিক নাম বলে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক নামের মাধ্যমে আমরা এই বিশ্বের সকল পানি খুব সহজেই জানতে পারি। বৈজ্ঞানিক নাম অবশ্যই ইংরেজি অথবা ল্যাটিন ভাষায় লিখতে হয়। তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম Tamarindus indica.

তেঁতুল এর ইংরেজি নাম

আমরা এখন জেনে নেব তেঁতুল এর ইংরেজি নাম সম্পর্কে। আমাদের দেশের সবাই কমবেশি তেঁতুল ফল চিনে থাকি। তেঁতুলের ইংরেজি নাম হল Melanesian papeda.তেতুল Fabaceae পরিবারের Tamarindus জাতের অন্তর্ভুক্ত টক জাতীয় ফলের গাছ এটি একপ্রকার টক জাতীয় ফল।

তেঁতুল এর পুষ্টিগুণ

আমরা এখন দেখে নেব তেঁতুলের পুষ্টিগুণগুলো। তেঁতুলের পুষ্টিগুণ বলে শেষ করা যাবে না। তেঁতুল বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি এর একটি অন্যতম উৎসব। তাছাড়া খনিজ পদার্থ, শর্করা, খাদ্য শক্তি, ফোসফরাস রয়েছে।

তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা আমাদের শরীরে ভিটামিনের অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। কোন ব্যক্তির 77 শতাংশ ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করতে সাহায্য করবে। সুতরাং যারা নিয়মিত তেঁতুল খাবেন তারা প্রতিদিনের যতটুকু ভিটামিন সি প্রয়োজন তা পূরণ করতে পারবেন।

১০০ গ্রাম পাঁকা তেঁতুলে পুষ্টিগুণ রয়েছে। জলীয় অংশ ২০.৯ গ্রাম, মোট খনিজ পদার্থ ২.৯ গ্রাম, আশ ৫.৬ গ্রাম, খাদ্য শক্তি ২৮.৩ কিলো ক্যালরি, আমিষ ৩১ গ্রাম, চর্বি 0.১ গ্রাম, শর্করা ৬৬,৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৭০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১০.৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রো গ্রাম, ভিটামিন বি ২০.৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ৩ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১১৩ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬২৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ইজ ০.১ মিলিগ্রাম, বিটা ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রগ্রাম, সোডিয়াম ২৮ মিলিগ্রাম, দস্তা ০.১২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৯২ মিলিগ্রাম, তামা ০.৮৬ মিলিগ্রাম

তেঁতুলের উপকারিতা কি

তেঁতুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। যারা তেঁতুলের উপকারিতা কি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাদের সুবিধার্থে আজকের আর্টিকেলে আমরা তেঁতুল ফলের উপকারিতা গুলো নিচে বিস্তারিত জানাবো।

  • কাঁচা কিংবা পাঁকা তেঁতুল খেলে মুখে রুচি বাড়ে।
  • তেঁতুল আমাদের শরীরের ভিতরে থাকা বিষাক্ত টক্সিক পদার্থকে দূর করে দিতে সাহায্য করে।
  • তেঁতুল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
  • তেঁতুলে থাকা ভিটামিন সি। ত্বকে শুষ্কতা দূর করে ত্বক মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। এবং ত্বকের লাবণ্যতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • দীর্ঘদিন যাবত বাতের ব্যথা ও হাড়ের ব্যথায় ভুগছেন তারা তেঁতুল খেতে পারেন।
  • যারা ডাইবেটিস রোগী আছেন তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেঁতুল নিয়মিত খেতে পারেন।
  • কাঁচা তেঁতুলের সঙ্গে রসুনবাটা মিশিয়ে খেলে রক্তের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
  • যাদের রক্তে চর্বি বা মেদ বেশি তাদের জন্য পাঁকা তেঁতুলে শরবত খাওয়া খুবই উপকারী। কেননা পাঁকা তেঁতুল কোলেস্টরেল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
  • তেঁতুল খেলে মুখে লালা তৈরি করতে সাহায্য করে।
  • তেঁতুল খেলে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
  • তেঁতুল খেলে পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • পাঁকা তেঁতুল খেলে হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • শিশুদের পেটে জমে থাকা কৃমি দূর করতে সাহায্য করে।
  • যারা পাইলস রোগে ভুগছেন তারা পাঁকা তেঁতুলের শরবত খেতে পারেন।
  • গর্ভাবস্থায় যেসব মায়েদের বমি বমি ভাব হয়ে থাকে তারা তেঁতুল খেতে পারেন।
  • যারা দীর্ঘদিন যাবত জন্ডিস রোগে ভুগছেন তারা তেতুল খেতে পারেন। জন্ডিস রোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

কাঁচা তেঁতুল এর উপকারিতা

কাঁচা তেঁতুল খাওয়ার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারিতা রয়েছে। কাঁচা তেঁতুলে থাকা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। কাঁচা তেঁতুল খাওয়ার ফলে শরীরে আয়রন সংগ্রহ করে। বিভিন্ন কোষে তা পরিবহন করে, এবং মস্তিষ্কের জন্য এটি খুবই প্রয়োজন একটি উপাদান। আয়রন সঠিক পরিমাণে মস্তিষ্কে যাওয়ার ফলে মস্তিষ্কে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। আগের তুলনায় মস্তিষ্কে চিন্তা ভাবনা অনেক হারে বেড়ে যায়। তেঁতুল গাছের পাতা, ছাল, তেঁতুল ফলের শ্বাস, কাঁচা ও পাকা ফলের খোসা, বীজের খোসা সব কিছুই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়াও কাঁচা তেতুল খেলে আমাদের পেটের মেদভুঁড়ি কমাতে সাহায্য করে।

পাঁকা তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা

পাঁকা তেঁতুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারিতা রয়েছে। পাঁকা তেতুলে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল হৃদরোগের জন্য খুবই উপকারী। পাঁকা তেঁতুল শরবত করে খেলে স্কার্ভি নামক রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরে জ্বালাপোড়া প্রভৃতি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া পাঁকা তেঁতুল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। যারা গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন। তারা পাঁকা তেঁতুলের শরবত খেতে পারেন।

পুরাতন তেঁতুলের উপকারিতা

পুরাতন তেঁতুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারিতা রয়েছে। পুরাতন তেঁতুল খেলে আমাশয়, পেট জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময়ের জমে থাকা কাশি ভালো করতে পুরাতন তেঁতুল খেতে পারেন। এছাড়া তেতুলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

তেঁতুলের বিচির উপকারিতা

বর্তমানে তেঁতুলের বিচির ব্যবহার ইউনানী, আয়ুর্বেদ, হোমিও, অ্যালোপ্যাথিক ঔষুধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ধরনের কাঁচামাল ছাড়াও ঔষুধের গুণের জন্য তেঁতুল অনেক উপকারী। তেঁতুলের বিচির সাহায্য চোখের ওষুধের চিকিৎসায় আমরা যে ড্রপ ব্যবহার করি সেই ড্রপ তৈরি করা হয়ে থাকে। এছাড়া পাকস্থলী গোলযোগ, লিভার গল-ব্লাডের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে তেঁতুলের বিচি।

মিষ্টি তেঁতুলের উপকারিতা - মিষ্টি তেঁতুলের দাম

মিষ্টি তেঁতুল আমাদের দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের ভেষজ ঔষধ তৈরি করা হয়। যেমনঃ আয়ুর্বেদিক, হোমিও, এলোপ্যাথিক। অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঁচা ও পাকা তেঁতুলের খনিজ উপাদান অনেক বেশি রয়েছে।

তেঁতুল ১২ মাসে পাওয়া যায়। পাঁকা ও মিষ্টি তেতুলের দাম এক কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সারা বাংলাদেশে একই রেটে পাওয়া যায়।

তেঁতুল শরবতের উপকারিতা - তেঁতুলের জুসের উপকারিতা

  • রক্তের লোহিত কণিকা গঠন ও স্বাস্থ্যকর কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম এর জন্য বেশ উপকারী তেঁতুলের শরবত। কারণে তেঁতুলের রসের ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভরপুর।
  • ১০০ গ্রাম তেঁতুলের রসে রয়েছে ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ ফাইবার। ট্যানিন্স, মুসিলেজ, পেক্টিন এর মতো খাবারযোগ্য ফাইবার তেঁতুল । এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
  • ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। তাদের দেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করতে তেঁতুলের রস অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছেন তারা তাদের খাদ্য তালিকায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তেঁতুল রাখতে পারেন।
  • অ্যালকোহল ও বিষক্রিয়ার আক্রান্তদের তেঁতুলের শরবত দিলে এর প্রভাব খুব দ্রুত কেটে যায়। যা এর বিরুদ্ধে এন্টিডোজ হিসাবে কাজ করে থাকে।
  • গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শরবতের ভূমিকা অতুলনীয়।
  • জ্বর ও শরীর ঠান্ডা হয়ে আসার মত সমস্যা যাদের রয়েছে। তাদের জন্য বেশ উপকারী। এক কাপ চায়ের সাথে তেঁতুলের পাতা মিশে সেবন করলে জ্বর ঠান্ডা দূর করতে সাহায্য করে।
  • আলসার সমস্যায় তেঁতুলের শরবতের সাথে একটু পুদিনা পাতা মেশালে তা মুখের আলসার দূর করতে অনেকটা ম্যাজিক এর মত কাজ করে। সাধারণত গরমে ঝাল, মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে আলসার সৃষ্টি হয়। তখন তেঁতুলের শরবত খেলে প্রদাহ কমিয়ে শীতল করে।

ছেলেরা তেঁতুল খেলে কি হয় - মেয়েদের তেঁতুল খেলে কি হয়

ছেলে বা মেয়ে ভেবে তেতুল খাওয়া নিয়ে কোন সমস্যা নেই। কাঁচা ও পাঁকা তেতুল খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারিতা রয়েছে। তবে পরিমাণের মাত্রা ঠিক রেখে তেঁতুল খাওয়া উচিত। অধিক পরিমাণ তেঁতুল খেলে উপকারের বদলে অপকারী হওয়া সম্ভব না বেশি রয়েছে। মুখের রুচি বৃদ্ধি করতে তেতুল একটি মুখরোচক ফল। এছাড়াও গর্ব অবস্থায় মহিলাদের তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে।

তেঁতুল এর ব্যবহার

তেঁতুল রান্নার কাজে এবং ওষুধি উভয় কারণে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্না ঘরে তেঁতুল মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কেবল রান্নাঘরের প্রধান জিনিস হওয়ার চেয়েও অনেক বেশি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। তেঁতুল ওজন কমাতে সাহায্য করে, ত্বক ও হজম এর উন্নতি ঘটে, চুলকে পুনরায় জীবিত করতে, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।

  • শরবত তৈরিতে পাঁকা তেতুল ব্যবহার করা হয়। 
  • তেঁতুল ফল ও পাতা দিয়ে চাটনি তৈরি করা হয়।
  • তেঁতুলের সালাত বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা হয়।
  • তেঁতুলের শস বানিয়ে খাওয়া হয়।
  • মোরব্বা তৈরিতে পাঁঁকা তেঁতুল ব্যবহার করা হয়।
  • আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে তেতুল ব্যবহার করা হয়।

তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম

ওজন কমাতে পাকা তেতুল প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পানিতে ভিজিয়ে রাখুন 5 থেকে 10 মিনিট। পরে হাত দিয়ে মেখে ছেঁকে নিন। এরপরে ছেঁকে নেওয়া তেঁতুলের সঙ্গে পুদিনা পাতা ভালো করে ধুয়ে সঙ্গে বিট ও চিনি মিশিয়ে পেস্ট করে সেবন করুন। ওজন কমাতে অনেক ভালো উপকার পাবেন।

পেটের চর্বি কমাতে পাঁকা তেঁতুলের ও পুদিনা পাতার রস খেতে পারেন।

মুখে রুচি বাড়াতে এক পিস তেঁতুল খেতে পারেন।

তেঁতুল খাওয়ার অপকারিতা

তেঁতুলের উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমন বেশ কিছু তেতুলের অপকারিতা রয়েছে। এখন আমরা জেনে নেব তেঁতুলের অপকারিতা গুলো সম্পর্কে।

  • তেঁতুল একটি টক জাতীয় ফল। তেতুলের অপকারিতা গুলোর মধ্যে একটি হল মিষ্টি তেতুল বা টক তেঁতুল সব তেঁতুলে রয়েছে কিছু পরিমাণে এসিড। টক তেঁতুল জাতীয় ফল হওয়ায় এটি খালি পেটে খাওয়া উচিত নয় তাছাড়া গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
  • আমাদের শরীরের জন্য যে কোন কিছু পরিণত পরিমাণে খাওয়া ভালো। পরিমাণে চেয়ে বেশি খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। ঠিক একইভাবে তেঁতুল পরিমাণে বেশি খেয়ে নিলে পেট ফুলে যেতে পারে এর ফলে একজন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
  • অনেক বেশি পরিমাণে তেঁতুল খেলে রক্তের সিরাম গ্লুকোজ এর মাত্রা কমে যায় বলে হাইপো গ্লাইনেসিয়া হয়। প্রতিদিন ১০ গ্রাম তেঁতুল সংগ্রহের পরামর্শ দেন। যা নিয়মিত খাদ্য সংগ্রহের 0.8% হতে পারে। এর বেশি গ্রহণ করলে শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

সর্বশেষ কথাঃ তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, যারা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে পড়েছেন। তারা নিশ্চয়ই তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এছাড়াও আরও তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম, তেঁতুল এর ইংরেজি নাম, তেঁতুল এর পুষ্টিগুণ, তেঁতুলের উপকারিতা কি, কাঁচা তেঁতুল এর উপকারিতা, পাঁকা তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা, পুরাতন তেঁতুলের উপকারিতা, তেঁতুলের বিচির উপকারিতা, মিষ্টি তেঁতুলের উপকারিতা, মিষ্টি তেঁতুলের দাম, তেঁতুল শরবতের উপকারিতা, তেঁতুলের জুসের উপকারিতা, ছেলেরা তেঁতুল খেলে কি হয়, মেয়েদের তেঁতুল খেলে কি হয়, তেঁতুল এর ব্যবহার তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম, তেঁতুল খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছি।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

Next Post Previous Post