OrdinaryITPostAd

পিল কি - পিল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - পিল খাওয়ার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক, আপনি পিল কি সার্চ করে আমাদের ওয়েবসাইটে এসেছেন। আপনি যদি একজন মেয়ে হয়ে থাকেন। পিল সম্পর্কে জানতে চান । তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের পোস্টে আমরা পিল কি, পিলের নাম ও দাম, পিল খাওয়ার উপকারিতা, পিল খাওয়ার নিয়ম ইত্যাদি তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছি।
পিল কি - পিল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - পিল খাওয়ার নিয়ম ২০২৩
পিল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন। তাহলে দেরি না করে, পিল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য সম্পর্কে জেনে নিন।

পিল কি

পিল হলো গর্ভরোধক একটি বড়ি। পিল বড়ি জন্মনিয়ন্ত্রণের নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি। বাংলাদেশের অনাকাঙ্ক্ষিত জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মেয়েদের সর্বাধিক ব্যবহৃত পদ্ধতি। এই বড়ির উপাদান হলো ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টোরেন। প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের গর্ভধারণ নিয়ন্ত্রণে ক্ষেত্রে প্রজেস্টোরেন সমৃদ্ধ মিলিওপিল কার্যকর এবং গর্ভরোধক বড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া কি জায়েজ

আমি সন্তানদের কি খাওয়াবো, কি পরাবো এই চিন্তা নিয়ে যদি কেউ জন্ম নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন  সেক্ষেত্রে সেটা সম্পূর্ণ হারাম হবে। কারণ রিজিকের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি সকলের রিজিকের ব্যবস্থা করে থাকেন। জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহার করা ইসলামে জায়েজ নেই। সারা বিশ্বের স্কলারগন লাইগেশন সহ স্থায়ী যে সকল জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি রয়েছে সেগুলোকে হারাম বলেছে।

সম্মানিত ইসলামিক স্কলারগন বলেছেন, দুইটি কারণে জন্ম নিয়ন্ত্রণ জায়েজ আছে প্রথমত কোন মহিলার গর্ভে সন্তান আসলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে বা শারীরিক বড় ধরনের কোন সমস্যা হতে পারে এমনটি হলে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

দ্বিতীয়ত হলঃ কোন সন্তান জন্মের পর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই দুই বছরের মধ্যে যদি কোন মা সন্তান গ্রহণ করেন এবং তার ফলে পূর্বের সন্তান অসুস্থ হতে পারে বা তার অধিকার ক্ষুন্ন হতে পারে এমনটা হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

এই দুই কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এছাড়া খাওয়ানো পোড়ানোর কথা ভেবে সন্তান না থেকে বিরত থাকলে সেটা কখনোই জায়েজ হবে না। ইসলামের যৌক্তিক কারণে এবং শরীয়া সম্মত কারণে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা জায়েজ রয়েছে।

পিল এর নাম ও দাম

পিল কি - পিল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - পিল খাওয়ার নিয়ম ২০২৩

পিল খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভপাত প্রতিরোধে মেয়েরা পিল খেয়ে থাকে। অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক স্থাপনের জন্য পিল খাওয়া স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। কারণ সাধারণত অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের সময় থেকে ১২০ ঘন্টার মধ্যে একটি পিল খেলে আপনার ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু জরায়ুতে আসতে পারেনা। ফলে জরায়ুতে থাকা শুক্রাণু নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ডিম্বানুর শুক্রানুর সাথে মিলিত হতে পারে। আর তাই গর্ভধারণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পিল সেবন করার ফলে মেয়েদের যৌনাঙ্গে অ্যানিমিয়া, আর্থ্রাইটিস, এটোপিক, ওয়ারিয়ান প্রদাহজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মহিলাদের পিরিয়ড চলাকালীন অস্বস্তি, চুলকানি সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়।

পিল খাওয়ার ফলে গড়পাত নির্দিষ্ট সময় মতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পিল বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ার কারণে গর্ভপাত বন্ধে মহিলারা পিল সেবন করলে গর্ভধারণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।

পিল খাওয়ার জন্য মেয়েদের নিয়মিত ব্যায়াম করার প্রয়োজন হয়। কারণ মেয়েদের স্তন ও কোমর বেড়ে যেতে থাকে। আর তাই মেয়েদের শরীর ফিট রাখতে পিল খাওয়ার পরে সুষম খাবার এর পাশাপাশি ব্যায়াম করা উচিত।

পিল খাওয়ার নিয়ম

প্রাপ্ত বয়স্ক পিল খাওয়ার নিয়মঃ সাধারণত প্রথম মাসিকের অন্তত ৩ দিন থেকে ৫ দিনের মধ্যে পিল খাওয়া উচিত। তারপর প্রতিদিন নিয়ম মেনে একই সময়ে একটা করে পিল খেতে হবে। যদি এক্ষেত্রে একদিন পিল খেতে ভুলে যান সেক্ষেত্রে পরের দিন ওই সময় একটা বিল অবশ্যই খেতে হবে। পিলের ঔষধের পাতায় সাধারণত ২৮ টি ওষুধ থাকে। এর মধ্যে ২১ টি ওষুধ খাওয়া যায়। তাই ২১ দিন পিল খাওয়ার পর বাদ দিতে হবে। 

বাচ্চা হওয়ার পর পিল খাওয়ার নিয়মঃ অনেকেই গুগলে সার্চ করে জানতে চাই বাচ্চা হওয়ার পর কিভাবে পিল খেতে হবে। তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট। আপনি যদি বাচ্চার মা হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনাকে ১৪ থেকে ১৮ মাস পর পিল খেতে হবে। কারণ বাচ্চা প্রসব করার পরে সাধারণত ১৪ থেকে ১৮ মাস পরে মাসিক হয়ে থাকে। আপনার যদি পেগনেন্সি পজেটিভ আসে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে আলাদা করে। বাচ্চার বয়স ছয় মাস পার হলে পিল খেতে হবে।

পিল কি - পিল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - পিল খাওয়ার নিয়ম ২০২৩

২৮ দিনের পিল খাওয়ার নিয়মঃ মেয়েদের মাসিকের কমপক্ষে তৃতীয় দিন থেকে পঞ্চম দিনের মধ্যে পিল খাওয়া শুরু করা উচিত। তারপর প্রতি দিন একই সময় একটা করে পিল খেতে হবে। 21 দিন পর পিল খাওয়া বাদ দিতে হবে। যদি কোন পিল খাওয়া মিস হয়ে যায় পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পিল খেয়ে নিতে পারবেন।

ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার নিয়মঃ ইমারজেন্সি পিল খাওয়া বলতে পরবর্তী দিনের ২৪ ঘন্টা মধ্যে পিল খাওয়া কে বোঝানো হয়। সাধারণত এটি ৭২ থেকে ১২০ ঘণ্টার মধ্যে খেতে হয়।  তবে শারীরিক সম্পর্কের পরপর যত দ্রুত সম্ভব পিল খাওয়া সব থেকে ভালো।

পিল খাওয়ার অপকারিতা

  • নিয়ন্ত্রণে পিল খাওয়া শুরু করলে নিয়মিত প্রতিদিন একটি করে পিল টানা 1 মাস খেতে হয়।
  • পিল সেবনে ওজন বৃদ্ধি পায়।
  • পিল খাওয়ার ফলে চোখে ঝাপসা দেখা যায়।
  • পিল সেবনে সেক্সুয়াল আগ্রহ কমে যায়।
  • পিল খাওয়ার ফলে পিরিয়ডের পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্ত বের হয়।
  • নিয়মিত পিল সেবনে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায়।
  • পিল সেবনের ফলে মাথা ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
  • নিয়মিত পিল খাওয়ার ফলে মানসিক হতাশার মধ্যে পড়তে হয়।
  • পিল সেবনের কারণে মহিলাদের বেস্ট এবং বুক ব্যথা অনুভব করে থাকে।
  • নিয়মিত পিল সেবনের ফলে হার্ট এটাকের সমস্যা বৃদ্ধি পেয়ে যায়। এক্ষেত্রে ৩৫ বছর মহিলাদের পিল খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • পিল সেবনে মেয়েদের স্তন ও কোমর চর্বি বৃদ্ধি পায়। ফলে স্তন ও কোমর মোটা হতে শুরু করে।

সর্বশেষ কথা - পিল কি - পিল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - পিল খাওয়ার নিয়ম

আজকের পোস্টে পিল কি, পিল এর নাম ও দাম, পিল খাওয়ার উপকারিতা, পিল খাওয়ার নিয়ম, পিল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আশা করি সকল প্রশ্নের উত্তর সম্পূর্নভাবে জানাতে পেরেছি। আপনাদের সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। যদি পিল সম্পর্কে আরো প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন