হার্টের ব্লক দূর করার খাবার - সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায়

হার্টের ব্লক দূর করার খাবার ও সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় - প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আশা করছি ভালো আছেন। আজকের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে হার্টের ব্লক দূর করার খাবার ও সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা হার্টের ব্লক দূর করার খাবার ও সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় সম্পর্কে অবগত নন। তাদের জন্য আমাদের আজকের আর্টিকেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পড়ে হার্টের ব্লক দূর করার খাবার ও সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন।

হার্টের ব্লক দূর করার খাবার - সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায়

আপনি যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থেকে আর্টিকেলটি পড়েন। তাহলে হার্টের ব্লক দূর করার খাবার ও সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আর কথা না বাড়িয়ে চলুন সূচিপত্র থেকে এক নজরে দেখে আসি আজকে কি কি থাকছে।

হার্টের ব্লক কি - হার্টের ব্লক কেন হয়

আমাদের আজকের আর্টিকেলে আলোচ্য বিষয় হলো হার্টের ব্লক দূর করার খাবার ও সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায়। মূল বিষয়ে আলোচনা যাওয়ার আগেই চলুন জেনে আসি হার্টের ব্লক কি, হার্টের ব্লক কেন হয় তা সম্পর্কে।

হার্ট এবং হৃদয় বলতে একই জিনিস কে বোঝানো হয়েছে। আমাদের বুকের সামনে অবস্থিত হার্ট। এটি আপনার স্টার্নামের (স্তনের হাড়) সামান্য পিছনে এবং বাম দিকে বসে।

হার্ট ব্লক হল যখন হৃৎপিণ্ডের পেশীর স্পন্দন নিয়ন্ত্রণকারী বৈদ্যুতিক আবেগগুলি ব্যাহত হয় । হার্ট এর সবচেয়ে গুরুতর প্রকারের হার্ট ব্লক যা সম্পূর্ণ বা থার্ড ডিগ্রী হিসাবে পরিচিত, হার্ট ব্লকের উপসর্গ থাকবে, তবে প্রায়শই কম গুরুতর হার্ট ব্লক যাদের আছে তাদেরও উপসর্গ থাকতে পারে।

হার্ট ব্লক প্রধানত দু'ভাবে হয়। প্রথমত, হার্টের ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত বা স্তব্ধ হয়ে যায়, যাকে হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি থ্রম্বোসিস বলা হয়। দ্বিতীয়ত, হার্টের জন্মগত গতি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে তাকে বলা হয় অ্যারিদমিয়া। এর ফলে হার্টবিট অতি দ্রুত হয়ে যায়, অথবা খুব স্লথ।

হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর নাম 'করোনারি ধমনী'। এ করোনারি ধমনীতে ব্লক সৃষ্টি হলে তাকে বলে 'ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজ'। ধমনীতে ব্লকের মূল কারণ কোলেস্টেরল যা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে ধমনীর ভেতরের গায়ে জমা হয়ে ব্লকের সৃষ্টি করে। কোলেস্টেরলই ব্লকের একমাত্র কারণ নয়।

এবার মাথায় রাখতে হবে যে হার্ট অ্যাটাক হলে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় না। রক্তনালীতে প্লাক (Plaque) তৈরির কারণে বা সহজে বললে বাধা তৈরি হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। উপরন্তু, এই সমস্যাটি একটি অ্যারিথমিয়া দ্বারা আনা হয়, যা হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি বা হ্রাস (অ্যারিথমিয়া) ঘটায়।

হৃৎপিণ্ডের কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহের জন্য রক্তনালি রয়েছে, যাদের করোনারি আর্টারি বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে গেলে অথবা রক্তনালিতে কোলস্টেরল জমে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হলে তাকে হার্ট ব্লক বলা হয়।

ব্লক থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা না নিলে তা হার্ট অ্যাটাকের দিকে মোড় নিতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃৎপেশি মারা যেতে শুরু করে বলে বুকে তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি ও প্রচুর ঘাম হয়। ইস্কেমিক হৃদরোগের বিকাশ, যা প্রায়শই রোগীদের মধ্যে পরিণত হয়, হার্ট অ্যাটাকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ

চিকিৎসকদের মতে হঠাৎ বুকে ব্যথা করা আচমকা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এছাড়া বুকে যদি ব্যথা না হয় সে ক্ষেত্রে অস্বস্তি বোধ হওয়া এটির অন্যতম লক্ষণ বলে বিবেচিত। হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বুকে কাঁপুনির মত অনুভূতি হওয়া হার্টবিট বেড়ে যাওয়া বুকে হাল্কা কিছু হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি শ্বাসকষ্টের সমস্যা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের কারন গুলোর মধ্যে অন্যতম।

যারা অতিরিক্ত ওজন সম্পন্ন ব্যক্তি তাদের এবং যাদের একবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে তাদের এ বিষয়ে খুবই সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া যে সকল ব্যক্তির সতর্ক থাকা উচিত যাদের করোনারি ধমনী প্রথম থেকেই সমস্যা রয়েছে। এছাড়া যাদের ডায়াবেটিস হাইপারটেনশন ঘুমানোর সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই এই ভাবে সতর্ক থাকা উচিত। এছাড়াও মদ্যপান ধূমপান খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত কারণ এইগুলো শরীরের জন্য শরীর সুস্থ রাখতে ক্ষতিকর শারীরিক কার্যকলাপ বাড়াবে।

রক্তনালির ভিতরে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা হতে হতে রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার পথকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ (ব্লক) করে দেওয়াকেই হার্টে ব্লক বলা হয়ে থাকে। রক্তনালিতে চর্বিজাতীয় বস্তু খুব ধীরে ধীরে জমা হয়। এভাবে ধীরে ধীরে হার্ট ব্লক তৈরি হয়।

উপরে আমরা জানলাম হার্টের সমস্যা কেন হয়? এখন আমরা জানব হার্টের সমস্যার লক্ষণ কি কি? আপনারা যারা এই পোস্টটি পড়ছেন তারা নিশ্চয়ই এই বিষয়ে জানতে চান। তাহলে আমাদের পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তো চলুন জেনে আসি হার্টের সমস্যার লক্ষণ কি কি?

  • বুকের মধ্যে চাপ অনুভূত হয়। যা কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যথা ভালো হয়ে যায় আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা ফিরে আসে। ঝাঁকুনি অনুভূতি হয়।
  • হার্টের সমস্যা হলে দেখবেন আপনার বাহু, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল এবং আপনার পাকস্থলী তে অস্বস্তি বোধ করবেন। তাহলে বুঝবেন আপনার হার্টের সমস্যা হয়েছে।
  • বুকের মধ্যে অস্বস্তি ভাব হয়। এবং শ্বাস ছোট হয়ে আসে।
  • ঠান্ডা ঘামের সাথে শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে।
  • হার্টবিট বেড়ে যাওয়া
  • ক্লান্তি অনুভূত হওয়া।
  • রাতে ঘুমানোর সময় ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।
  • এর প্রধান লক্ষণ হলো বুকের মধ্যে চাপ ও ঝাকুনি অনুভূত হয়। আস্তে আস্তে সেই ব্যথা চোয়ালে অথবা বাম কাঁধ ও হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • শ্বাসকষ্ট দম ফুলে যাওয়া সময় আপনার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে কিন্তু আপনার শ্বাসজনিত কোন সমস্যা নাই তাহলে এটি খারাপ লক্ষণ
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। অতিরিক্ত ঘাম হওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
  • বুকের মধ্যে অস্বস্তিভাব হয় এবং শ্বাস ছোট হয়ে আসে।
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া। নারীদের ক্ষেত্রে ও কখনও কখনও এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত ঘাম বের হয় তার জন্য শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে।
  • তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব হয় প্রচন্ড মাথা ব্যাথা অনুভূত হয়।
  • চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া বা চোখে ঝাপসা দেখা।
  • মুখ হাত পা শরীরের এক পাস দুর্বল অনুভূত হওয়া।
  • অনিয়মিত পালস রেট।
  • হাঁটতে না পারা মাথা ঘোরা। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

হার্টের রোগীর খাবারের তালিকা 

প্রিয় পাঠকগণ আপনারা যারা এই পোস্টটি পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই হার্টের রোগীর খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জানতে চান। আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। নিচে হার্টের রোগের খাবারের তালিকা দেওয়া হল।

  • সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল। আপনি যদি হার্টের রোগীর তাহলে আপনাকে নিয়মিত সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। আপনি প্রতিদিন দুই থেকে তিন প্রকারের ফল খেতে পারেন। এবং হার্টের রোগীর খাদ্য তালিকায় দৈনিক শাকসবজি রাখবেন।
  • হাটের রোগীর খাদ্য তালিকায় মাছ রাখতে পারেন। মাছ হার্টের রোগীর জন্য খুবই উপকারী একটি খাদ্য।
  • হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য, মুরগির মাংস, কুসুম ছাড়া মুরগির ডিম এবং গরুর দুধ সবই স্বাস্থ্যকর বিকল্প। তাই আপনি হৃদরোগীদের খাদ্য তালিকায় ডাল অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
  • নিয়মিত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানি হার্টের জন্য উপকারী। তাই হার্টের রোগ ধরা পরল পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
  • অলিভ অয়েল তেল দিয়ে রান্না করে সেই রান্না খেতে হবে। হার্টের রোগীর খাদ্য তালিকা অলিভ অয়েল তেল দিয়ে রান্না করা খাবার রাখতে হবে।

হার্টের ব্লক দূর করার খাবার

ওমেগা -3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ (স্যামন, টুনা এবং ট্রাউট) চর্বিহীন মাংস যেমন 95% চর্বিহীন গ্রাউন্ড গরুর মাংস বা শূকরের মাংস বা চামড়াহীন মুরগি বা টার্কি। ডিম । বাদাম, বীজ, এবং সয়া পণ্য (টোফু)

* ধূমপান হার্ট ব্লক এবং হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ। অতএব, ধূমপান ত্যাগ করা একটি ভাল ধারণা। আপনার হার্টের জন্য খারাপ খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন ট্রান্স ফ্যাট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং সাধারণ কার্বোহাইড্রেট।

আপনি নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলি দিয়ে শুরু করতে পারেন: আরও ফল এবং শাকসবজি খান: পুষ্টির বৈচিত্র্যময় সরবরাহ পেতে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন ধরণের খান। আপনার খাদ্যতালিকায় আরও ভালো চর্বি যোগ করুন: ভালো চর্বিকে অসম্পৃক্ত চর্বিও বলা হয়। জলপাই, বাদাম, অ্যাভোকাডো এবং মাছের মতো খাবারে অসম্পৃক্ত চর্বি থাকে।

হার্টের জন্য স্বাস্থ্যকর বাদামগুলো হলো— আমন্ড, চিনাবাদাম, আখরোট, হ্যাজেলনাট এবং পেকান। বিটের রস নাইট্রেট সমৃদ্ধ, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বিট হার্টের জন্য খুবই উপকারী। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুসারে নিয়মিত এক গ্লাস বিটরুটের রস রক্তনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

হার্টের জন্য উপকারী ফল 

কলাঃ কলাতে রয়েছে পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। হার্ট এর অন্যতম একটি বড় সমস্যা হল উচ্চ রক্তচাপ। কলা খেলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

কমলাঃ কমলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। কমলাতে রয়েছে পেকটিন নামক এক ধরনের আশ যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। কমলাতে আরো রয়েছে ভিটামিন। তাই হার্টের উপকারী ফল হিসেবে কমলা খেতে পারেন।

আপেলঃ আপেলে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বড় ভূমিকা পালন করেন।

পেঁপে: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল হল পেঁপে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য চমৎকার একটি ফল।

সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায়

সিএবি জি হলো ভারতের কার্ডিয়াক সার্জন দের দ্বারা ব্যবহৃত সম্প্রতি তম কৌশল গুলোর মধ্যে একটি। এটি হার্টের ভাল্ব রোগ এবং অন্যান্য জন্মগত অবস্থায় তার মতো অবস্থান নির্ণয় করতে এটি সাহায্য করে। পিটিসি এ এমন একটি প্রক্রিয়া যা সাধারণত এনেসথেসিয়া দ্বারা করা হয়। ডক্টর ত্বকের নিচে একটি সাইট তৈরী করে এবং এর বিরুদ্ধে স্থানে একটি ক্যাথেটার ঢোকানো হয়।

এটি সাইটে পৌঁছালে সার্জেন্ট বহুবার বেলুনকে স্ফীত করে এবং রিফ্লেক্ট করে যা লেকটিকে সংকুচিত করে এবং ধমনী টি খুলে দেয়। এছাড়া আন্টিও প্লাস্টিক নামক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে স্ট্যান্ড উপস্থাপন করা যেতে পারে। এছাড়াও স্ট্যান্ডগুলি রক্তনালী অক্ষম রাখতে এবং মসৃণ রক্তপ্রবাহে সক্ষম করতে সাহায্য করে। এছাড়া এই স্ট্যান্ড কখনো কখনো ওষুধের সাথে লেফযুক্ত হতে পারে।

আজকাল বয়স হলেই বিভিন্ন মানুষের হার্টের সমস্যা দেখা যায়। ছোটদেরও এখন হার্টের সমস্যা থাকে। তবে বেশিরভাগ সময়ে বয়সের সাথে সাথে এই সমস্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হার্টে ব্লক - এই রোগের নামের সাথে আমরা বেশ পরিচিত।

হার্টে ব্লক ধরা পড়লেই রোগীকে অপারেশন করতে বলা হয়। কিন্তু অপারেশন ছাড়াও ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনি এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

প্রয়োজনীয় উপকরণ-

১. লেবুর রস- ১ কাপ

২. আদার রস- ১ কাপ

৩. রসুনের রস- ১ কাপ

৪. আপেল সাইডার ভিনেগার- ১ কাপ

৫. মধু- ৩ কাপ

তৈরিকরণ পদ্ধতি-

লেবুর রস, আদার রস, রসুনের রস এবং আপেল সাইডার ভিনেগার একত্রে মিশিয়ে নিন। এবার হালকা জ্বালে আধা ঘণ্টা ফুটিয়ে নিন। যেন তা ৪ কাপ থেকে তিন কাপ পরিমাণ হয়ে যায়। এবার এই মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে নিন। ঠাণ্ডা হবার পর এর সাথে ৩ কাপ মধু ভালভাবে মিশিয়ে নিন।

প্রতিদিন সকালে খাবারের আধা ঘন্টা আগে এই মিশ্রণের এক চা চামচ নিন। কিছু দিনের মধ্যে, এটি হার্ট ব্লক আনলক করবে। আপনাদের সুবিধার্থে সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় ভিডিও দেওয়া হলো।

হার্ট ব্লক থেকে বাঁচার উপায়

এছাড়া খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মিত শরীরচর্চার ফলে দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া আম আহাটে কোলেস্ট্রল জমলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক শতাংশ বেড়ে যায় এজন্য খাদ্যাভ্যাসের স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। হৃদযন্ত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় ফ্যাট জমলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়।এই অবস্থায় ডায়েটে নিয়মিত এই খাবারগুলো রাখলে হার্ট ব্লকেজ এর সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।

নিয়মিত লাউ খেলে মোটা হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে এছাড়াও হার্ট ব্লকেজ এর সমস্যাও দূর করে থাকে। লাউ সেদ্ধ করে তার সঙ্গে ধনে গুঁড়ো হলুদ ও ধনেপাতা মিশিয়ে সপ্তাহে অন্তত দুইবার খেলে হার্ট ভালো থাকে বলে একটি দৃশ্যে দেখা গেছে।দুধ আমলকি এবং আমলা চূর্ণ ও দুধের সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন এক গ্লাস করে খেলে হার্টের সমস্যা দূর হয়ে যায়।

রসুন শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ দূর করে শরীরকে সুস্থ রাখে এজন্য রসুনের আচার ভার্সন যেকোনো ভাবে খেতে পারেন এতে শরীর সুস্থ থাকবে। এছাড়া নিয়মিত রসুন খেলে মানুষের কোলেস্টরেলের লেভেল অনেকাংশে কমে যায়।নিয়মিতভাবে জলের সঙ্গে এক বা দুই কোয়া রসুন খাওয়া যায় তাহলে এটি হার্ট এর জন্য খুবই উপকারী একটি প্রাকৃতিক রেমেডি বা মহা ঔষধি। রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের সমস্যা দূর করে থাকে।

এছাড়া নিয়মিত লেবু পানি পান করলে কোলেস্টরলের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়ে যায় এবং শরীর থাকে কোলেস্টরেল ফ্রী। লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্ট ব্লকেজ এর অনেক অংশ কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন সকালে গরম পানিতে লেবু মেশালে শরীর অনেক অসুস্থ হয় এবং মুক্ত ও ফিট থাকে।

ধূমপান করা যাবে নাঃ হৃদপিন্ডের অন্যতম প্রধান শত্রু হলো ধূমপান। ধূমপানের কারণে হৃদরোগসহ আরো অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। ধূমপান অবশ্যই বর্জন করতে হবে যদি হার্টের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ আপনি যদি হার্টের সমস্যা সমাধানের উপায় খোঁজেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা আপনার জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে আপনাকে অবশ্যই এটি পরিচালনা করতে হবে। যদি আপনি হার্টের ব্লক সমস্যা প্রতিরোধ করতে চান এবং তাদের চিকিৎসার পরামর্শ নিতে হবে।

নিয়মিত ব্যায়ামঃ হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। হালকা ব্যায়াম করা সকাল-সন্ধ্যা হাঁটাচলা করা। লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠা এবং ঘরে বসে ব্যায়াম করতে পারবেন।

চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়াঃ হার্টের আরেকটি বড় শত্রু হল চর্বিযুক্ত খাবার। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে এবং হৃদ রোগ হতে পারে এজন্য চর্বিযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয় কি

অনেক সময় আমাদের আত্মীয় স্বজন এর হার্ট অ্যাটাক হয় কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হলে করনীয় কি সে সম্পর্কে ধারনা থাকে না। তাই আজকের পোস্টটি তাদের জন্য। তো চলুন জেনে আসি হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয় গুলো কি কি?

হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয়ঃ

আপনার যদি কারো হার্ট অ্যাটাক হয় তাহলে অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

যদি আপনার পরিচিত কারা হার্ট অ্যাটাক হয় তাহলে তার শরীরের জামা কাপড় ঢিলে ঢালা করে শক্ত কোন জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন।

অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক হলে কারও কারও শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় কৃত্রিম উপায়ে আপনি তাকে শ্বাস-প্রশ্বাস দিবেন।

হার্ট অ্যাটাক হলে অনেকের বমি হয় তখন রোগীকে একপাশে কাত করে তাকে বমি করার সুযোগ করে দিন। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর বমি হওয়া ভালো লক্ষণ।

এবং দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি পারেন রোগীকে মেডিকেলে নিয়ে যাবেন। মেডিকেলে চিকিৎসা পেলে রোগী অনেকটা আরাম পাবে।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার

আপনারা যারা এই পোস্টটি পড়ছেন তারা নিশ্চয় জেনে গেছেন হার্টের সমস্যার লক্ষণ কি কি এবং হার্টের সমস্যা সমাধানের উপায় গুলো। আপনি যদি এখনও পোস্টটি ভাল মত না পড়ে থাকেন এবং হার্টের সমস্যার লক্ষণ কি কি না জেনে থাকেন তাহলে ওপরে পোস্টটি ভাল মত করুন। তাহলে হার্টের সমস্যার লক্ষণ গুলো জানতে পারবেন।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ এর সাথে সাথে হার্টের সমস্যার প্রতিকার ও আলোচনা করা হয়েছে। যেগুলো মেনে চললে আপনার হার্টের সমস্যা হবে না। এবং যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে আপনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিতে পারেন।

হার্ট অ্যাটাক এর চিকিৎসা 

হার্ট অ্যাটাক এখনকার সময়ের একটি জটিল রোগ। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ রোগের চিকিৎসা ও রয়েছে। উপরে আমরা হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয় সম্পর্কে জানলাম। এখন আমরা জানবো হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা গুলো কি কি?

হার্ট অ্যাটাক এর চিকিৎসাঃ

হার্ট অ্যাটাক হলে অবশ্যই রোগীকে তাড়াতাড়ি মেডিকেলে নিয়ে যেতে হবে। মেডিকেল যদি হয় তাহলে রোগীর পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো-বাতাস পাওয়ার মতো ব্যবস্থা রাখতে হবে। জিব্বা নিচের নাইট্রেট ট্যাবলেট দিয়ে দিতে পারেন।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার রোগী দেখে তার চিকিৎসা শুরু করবেন। ইসিজি করবেন যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অক্সিজেন দেবেন।

এরপর রোগীর এনজিওগ্রাম করে হার্টের ব্লক পরীক্ষা করবেন। যদি হার্টের ব্লকের পরিমাণ বেশি হয় তাহলে ওষুধের সমাধান হবে না। তখন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে। এক্ষেত্রে সার্জারি করে ধমনীতে প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক্রো রিং পড়াতে পারেন।

এরপরেও যদি আবার হার্ট অ্যাটাক হয় তারপরে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ওপেন হার্ট সার্জারি (বাইপাস) সার্জারি করতে পারেন।

হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার 

এখন আমরা জানবো হার্টের জন্য ক্ষতিকর কিছু খাবার। যা খেলে হার্ট এর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যা থেকে হার্টের রোগীর দূরে থাকতে হবে। এখন আমরা জানবো হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার গুলো কি?

চিংড়িঃ হার্টের জন্য একটি ক্ষতিকর খাবার হল চিংড়ি মাছ। চিংড়িতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল যা হার্টের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাই হার্টের সমস্যা থাকলে চিংড়ি মাছ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ফাস্টফুডঃ একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা প্রতিদিন ফাস্টফুড খাই হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। যারা অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাই তাদের আরো বেশি সম্ভাবনা থাকে।

ডিমের কুসুমঃ ডিমের কুসুম হৃদরোগের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য। যারা হৃদরোগে আক্রান্ত তারা ডিমের সাদা অংশ খেতে পারলেও ডিমের কুসুম খাওয়া ক্ষতিকর। এতে প্রচুর পরিমাণে করে কোলেস্টেরল রয়েছে।

নারিকেলঃ নারিকেল খেলে হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এটি একটি ক্ষতিকর খাবার। হৃদ রোগীদের জন্য।

অতিরিক্ত ভাজাপোড়াঃ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এমনিতেও খাওয়া ক্ষতিকর। যা সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে তোলে। তাহলে হার্টের রোগীর জন্য আরো ক্ষতিকর হবে।

হার্ট ব্লক সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ হার্ট ব্লক হলে কি হয়?

উত্তরঃ হার্ট ব্লক প্রধানত দু'ভাবে হয়। প্রথমত, হার্টের ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত বা স্তব্ধ হয়ে যায়, যাকে হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি থ্রম্বোসিস বলা হয়। দ্বিতীয়ত, হার্টের জন্মগত গতি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে তাকে বলা হয় অ্যারিদমিয়া। এর ফলে হার্টবিট হয় অতি দ্রুত হয়ে যায়, অথবা খুব স্লথ।

প্রশ্নঃ হার্টের ব্লক দূর করার ঔষধ?

উত্তরঃ রক্তনালির তিন বা ততোধিক ব্লকের চিকিৎসায়ও Angioplasty বা রিং লাগানো যেতে পারে, যদি ব্লকগুলো উপযুক্ত জায়গায় হয় বা রোগী অপারেশন করতে অস্বীকার করে এবং রিং লাগাতে চায়। Left main coronary artery stenosis বা বামদিকের মূল করোনারি ধমনিতে ব্লক হলে সাধারণত বাইপাস সার্জারি করা হয়।

প্রশ্নঃ হার্ট ভালো রাখতে গেলে কি করতে হবে?

উত্তরঃ তার মতে হার্টের জন্য দরকার একটু দ্রুত গতিতে হাঁটা, যা হার্টের রেট বাড়াতে সহায়তা করবে। আবার হাঁটা ছাড়াও সাঁতার ও সাইক্লিংয়ের মতো ব্যায়াম হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু এটি বয়স ভেদে সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। এজন্যই হাঁটাহাঁটির বিষয়টিই সবাইকে বেশি জোর দিয়ে বলা হয়।

প্রশ্নঃ হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ কি কি?

উত্তরঃ বুকের ব্যথা চোয়ালে, হাতে, পেটে বা অন্যত্র ছড়িয়ে যাওয়া। * অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। * শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া ও মাথা ঘোরা। * কোনও সাধারণ কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া।

প্রশ্নঃ প্রাকৃতিক উপায়ে কি হার্টের ব্লক দূর করা যায়?

উত্তরঃ যদিও হার্টের ছোটখাটো ব্লকগুলি নিয়মিত ব্যায়াম, প্রচুর ঘুম, একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং ধূমপান ও মদ্যপান কমানোর মতো জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিরাময় করা যেতে পারে, চরম ক্ষেত্রে ওষুধ এবং এমনকি সার্জারি বা ইমপ্লান্টের প্রয়োজন হয়।

প্রশ্নঃ পালস কত থাকা দরকার?

উত্তরঃ হৃদপিন্ডের পাম্পকেই মানুষের হৃদস্পন্দন বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি সাধারণ হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে 60-100 বার হয়।

প্রশ্নঃ ৫ সেকেন্ড হার্টবিট বন্ধ থাকলে কি হয়?

উত্তরঃ হৃৎপিণ্ডের অবিচলিত পাম্পিং অ্যাকশন ছাড়া শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত ​​চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যদি না জরুরী সাহায্য হৃদস্পন্দন পুনরুদ্ধার করে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে আবার রক্ত ​​চলাচল না করে, তাহলে মৃত্যু ঘটবে ।

প্রশ্নঃ স্বাভাবিক ব্লকেজ কত?

উত্তরঃ হার্ট ব্লকেজের একটি মাঝারি পরিমাণ সাধারণত 40-70% পরিসরে , যেমন উপরের চিত্রে দেখা যায় যেখানে ডান করোনারি ধমনীর শুরুতে 50% ব্লকেজ রয়েছে। সাধারণত, মাঝারি পরিসরে হার্ট ব্লকেজ রক্ত ​​​​প্রবাহে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে না এবং তাই উপসর্গ সৃষ্টি করে না।

প্রশ্নঃ হার্ট এটাক কি এবং কেন হয়?

উত্তরঃ এবার মাথায় রাখতে হবে যে হার্ট অ্যাটাক হলে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছয় না। রক্তনালীতে প্লাক (Plaque) তৈরির কারণে বা সহজে বললে বাধা তৈরি হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। উপরন্তু, এই সমস্যাটি একটি অ্যারিথমিয়া দ্বারা আনা হয়, যা হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি বা হ্রাস (অ্যারিথমিয়া) ঘটায়।

প্রশ্নঃ হার্ট কোথায় অবস্থিত?

উত্তরঃ আপনার হৃদয় আপনার বুকের সামনে অবস্থিত। এটি আপনার স্টার্নামের (স্তনের হাড়) সামান্য পিছনে এবং বাম দিকে বসে।

প্রশ্নঃ ঘরে বসে হার্টের স্বাস্থ্য পরীক্ষা?

উত্তরঃ আপনার হাতের তর্জনী এবং মধ্যমা আঙুলটি থাম্বের গোড়ার ঠিক নীচে, অন্য বাহুর ভেতরের কব্জিতে রাখুন। আপনি আপনার আঙ্গুলের বিরুদ্ধে একটি লঘুপাত বা স্পন্দন অনুভব করা উচিত। 10 সেকেন্ডে আপনি কতগুলি ট্যাপ অনুভব করছেন তা গণনা করুন। 1 মিনিটের জন্য আপনার হৃদস্পন্দন খুঁজে পেতে সেই সংখ্যাটিকে 6 দ্বারা গুণ করুন।

প্রশ্নঃ রক্ত পরীক্ষা করে কি হার্টের সমস্যা শনাক্ত করা যায়?

উত্তরঃ হার্টের অবস্থা নির্ণয় করার জন্য সবচেয়ে সাধারণ ধরনের রক্ত ​​​​পরীক্ষাগুলি হল: কার্ডিয়াক এনজাইম পরীক্ষা (ট্রপোনিন পরীক্ষা সহ) - হার্ট অ্যাটাক নির্ণয় বা বাতিল করতে সাহায্য করে। ফুল ব্লাড কাউন্ট (FBC) - এটি বিভিন্ন রক্তের মাত্রা পরিমাপ করে এবং উদাহরণস্বরূপ, আপনার সংক্রমণ বা অ্যানিমিয়া আছে কিনা তা নির্দেশ করতে পারে।

প্রশ্নঃ হার্ট ব্লক মেডিসিন?

উত্তরঃ Cardivas 10 MG Tablet নামক একটি আলফা এবং বিটা ব্লকার হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা এবং অত্যধিক রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি আপনার হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এটি কিডনির সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে।

প্রশ্নঃ হার্ট ব্লকের সবচেয়ে ভালো ঔষধ কোনটি?

উত্তরঃ অ্যাটেনোলল, বিসোপ্রোলল, মেটোপ্রোলল এবং নেবিভোলল সহ বিটা ব্লকারগুলি প্রায়শই এনজিনা প্রতিরোধ করতে এবং উচ্চ রক্তচাপের চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়। তারা শরীরের একটি নির্দিষ্ট হরমোনের প্রভাবগুলিকে ব্লক করে কাজ করে, যা আপনার হৃদস্পন্দনকে ধীর করে দেয় এবং রক্ত ​​​​প্রবাহকে উন্নত করে।

সর্বশেষ কথাঃ হার্টের ব্লক দূর করার খাবার - সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায়

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আপনারা যারা আমাদের আজকে আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়েছি তারা নিশ্চয়ই হার্ট ব্লক দূর করার খাবার ও সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন।

হার্ট ব্লক যেহেতু একটি মেজর একটি সমস্যা। তাই অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার জন্য হার্ট ব্লক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা দরকার জরুরী। আমাদের পরিবারের অনেকেই আছে যারা হার্টের সমস্যাই ভুগছেন। আপনি চাইলেই তথ্যগুলি তাদের মাঝে শেয়ার করতে পারেন।

এতে করে সেই হার্টের রোগী স্বাস্থ্য সচেতন হতে পারবে। আশা করি আজকের পড়ে আপনারা অনেকে উপকৃত হয়েছেন। পোস্টটি পড়ে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে। তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম আরো স্বাস্থ্য সচেতন মূলক টিপস পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।

Next Post Previous Post